ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ লিগ ‘ইন্ডিয়ান সুপার লিগ’ (ISL) আয়োজন ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতাকে সরাসরি ‘ম্যানমেড ক্রাইসিস’ বা কৃত্রিম সংকট বলে অভিহিত করলেন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)-এর প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে। চলতি মরশুম শেষের মুখে দাঁড়িয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করলেন যে, এই সংকট কোনো প্রাকৃতিক বা অনিবার্য কারণে ছিল না, বরং কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের তৈরি করা গোলকধাঁধায় পড়েছিল লিগের ভবিষ্যৎ।
ঠিক কী বলেছেন ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট? কল্যাণ চৌবে সাফ জানিয়েছেন, লিগ পরিচালনা এবং মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট (MRA) সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আদতে বাইরে থেকে তৈরি করা। তিনি বলেন, “আমরা ফুটবলের স্বার্থে এই লিগ সচল রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যে ক্রাইসিসের কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে মানুষের তৈরি করা বা ‘ম্যানমেড’।”
আগামী মরশুমের জন্য রোডম্যাপ: চলতি মরশুম শেষ হতে না হতেই আগামী মরশুমের ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন ফেডারেশন প্রধান। তাঁর মতে:
স্বমহিমায় ফেরা: আগামী মরশুমে আইএসএল তার হারানো ছন্দ ও গরিমা ফিরে পাবে। কোনো আইনি বা আর্থিক জটিলতা আর লিগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
ইউরোপীয় ধাঁচে কাঠামো: লিগ পরিচালনার জন্য ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর অনুকরণে একটি ‘গভর্নিং কাউন্সিল’ এবং ‘ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করবে।
সুষ্ঠু পরিকল্পনা: ক্লাবের সিইওদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শীঘ্রই আগামী মরশুমের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও নিয়মাবলি ঘোষণা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতামত: দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ফুটবলে প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা ফুটবল প্রেমীদের চিন্তায় রেখেছিল। ফেডারেশন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে কিছুটা আশার আলো দেখছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। তবে, মাঠের বাইরে এই ‘ম্যানমেড ক্রাইসিস’ কাটলেও মাঠের ভেতর ক্লাবগুলোর পারফরম্যান্স ও মান ধরে রাখাটাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে, আইএএসএল নিয়ে ফেডারেশনের এই নতুন রোডম্যাপ এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাব ভারতীয় ফুটবলকে এক নতুন দিশা দিতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত।
আপনি কি আইএসএল-এর এই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো বা ফুটবল ফেডারেশনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও বিশদ কিছু জানতে চান?





