চড়চড় করে বাড়ছে তাপমাত্রা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চড়া রোদ আর আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে নাজেহাল জনজীবন। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন জারি থাকতে পারে। এই তীব্র গরমে কেবল ক্লান্তি নয়, বাড়ছে হিটস্ট্রোক (Heat Stroke) এবং খিঁচুনির (Seizure) মতো প্রাণঘাতী সমস্যার ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ সতর্কবার্তায় চিকিৎসকরা।
কেন বাড়ছে ঝুঁকি? চিকিৎসকদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখার ক্ষমতা যখন অত্যধিক গরমের কারণে ভেঙে পড়ে, তখনই হিটস্ট্রোক হয়। অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমে শরীরে জলের ঘাটতি (Dehydration) এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে মস্তিষ্ক উত্তেজিত হয়ে খিঁচুনির সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং যারা আগে থেকেই স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
সুস্থ থাকতে চিকিৎসকদের ৫টি জরুরি পরামর্শ:
পর্যাপ্ত জল পান: তৃষ্ণা পাক বা না পাক, সারাদিন অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন। ডাবের জল, ওআরএস (ORS) বা লস্যি খেতে পারেন।
রোদে বেরোনোয় রাশ: বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বাইরে বেরোনো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। খুব প্রয়োজন হলে ছাতা, টুপি বা রোদচশমা ব্যবহার করুন।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: মশলাদার, ভাজাভুজি বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। মরসুমি ফল (তরমুজ, শসা) ও হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
পোশাকের দিকে নজর: গাঢ় রঙের পোশাক এড়িয়ে সুতির হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
সতর্ক সংকেত চেনা: মাথা ঝিমঝিম করা, অতিরিক্ত ঘাম বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি ভাব বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশেষজ্ঞের মত: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “হিটস্ট্রোক বা খিঁচুনি অবহেলার বিষয় নয়। শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে উঠে গেলে তা জরুরি অবস্থা তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীকে তৎক্ষণাৎ ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে এসে শরীরে জল বা বরফের জলীয় ঝাপটা দিয়ে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করতে হবে।”
এই তীব্র গরমে আপনি কি হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা বা কোন ধরণের খাবার এই মুহূর্তে এড়িয়ে চলা উচিত, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান?





