সকাল থেকেই বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের পদক্ষেপে নড়েচড়ে বসল সল্টলেক। শুক্রবার পরিদর্শনের সময় সল্টলেকের AE মার্কেটে এক ভয়াবহ দৃশ্য চোখে পড়ে তাঁর। দেখা যায়, প্রকাশ্য রাস্তা এবং জনবহুল ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে সারি সারি গাড়ি। যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ কার্যত অবরুদ্ধ। এই দৃশ্য দেখেই বিধায়ক মেজাজ হারান এবং তৎক্ষণাৎ কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।
জানা যায়, ওই এলাকায় একটি পুরনো গাড়ি কেনাবেচার শোরুম রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সেই শোরুমের গাড়িগুলোই যত্রতত্র রাখা হয়েছে। বিধায়ক গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি শোরুমের কর্মীদের কাছে জানতে চান, কার অনুমতিতে জনচলাচলের এই সরকারি জায়গা এভাবে দখল করা হয়েছে? এরপর তিনি তাদের মাত্র ১০ মিনিটের সময়সীমা বেঁধে দেন। বিধায়কের পরিষ্কার নির্দেশ, ১০ মিনিটের মধ্যে রাস্তা এবং ফুটপাত গাড়িহীন করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, “আমি সল্টলেকের মানুষের কাছ থেকে প্রচুর অভিযোগ পাচ্ছিলাম। সাধারণ মানুষ আমাকে জানিয়েছেন যে, রাস্তা এবং ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় তাঁদের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। মানুষ হাঁটতে পারছেন না। গাড়ি ব্যবসায়ী শোরুমের মালিকদের এর আগেও বলা হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা আমাদের কথাকে আমল দেননি। শুধুমাত্র বেআইনি পার্কিং নয়, ওই শোরুমের লোকেরা নিজের সুবিধার জন্য বেআইনিভাবে ফুটপাত উঁচুও করেছেন। আমি নির্দেশ দিয়েছি, দ্রুত সেই নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। যদি তাঁরা নিজে থেকে না সরান, তবে আমি পুলিশ ও পুরসভাকে নির্দেশ দেব এই বেআইনি দখলদারি গুঁড়িয়ে দিতে।”
উল্লেখ্য, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে জনস্বার্থমূলক কাজে তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে জবরদখল এবং বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন। রাস্তার ওপর বেআইনিভাবে গাড়ি রাখা বা ফুটপাত দখল করে ব্যবসার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। বিধায়কের এই সরাসরি অ্যাকশনকে এলাকার মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয়দের কথায়, বছরের পর বছর ধরে গাড়ি ব্যবসায়ীদের এই দাদাগিরির ফলে তাঁরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।
বিধাননগরের এই ঘটনা প্রমাণ করে, প্রশাসনিক কড়াকড়ি থাকলে জনস্বার্থ বিরোধী কাজ যে সহজেই বন্ধ করা যায়। এখন দেখার বিষয়, ১০ মিনিটের আল্টিমেটাম মান্য করে শোরুম কর্তৃপক্ষ এলাকা খালি করে কি না, নাকি বিধায়কের নির্দেশে পুলিশ ও পুরসভা বুলডোজার নিয়ে অভিযানে নামে। বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে বিধায়কের এই ‘ক্লিন-আপ’ মিশন সল্টলেকের বাকি এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।





