দিল্লির রেশন ব্যবস্থায় এক বড়সড় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। অবৈধ এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে একযোগে বাতিল করা হলো ৭ লক্ষ ৭২ হাজার রেশন কার্ড। শুধু কার্ড বাতিলই নয়, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রেশন পাওয়ার জন্য আয়ের ঊর্ধ্বসীমাতেও বড়সড় পরিবর্তন আনল সরকার।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিগত ১৩ বছর ধরে দিল্লিতে নতুন কোনো রেশন কার্ড ইস্যু করা হয়নি। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বচ্ছতা ফেরাতেই অডিট চালানো হয়েছিল। সেই অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ লক্ষ ৪৪ হাজার উপভোক্তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যারা সরকারি শর্ত বা আয়ের যোগ্যতা পূরণ করেন না। এছাড়া, ৩৫ হাজার ৮০০ জন এমন রয়েছেন যারা কোনোদিন রেশন নেননি, ২৯ হাজার ৫৮০ জন উপভোক্তার মৃত্যু হয়েছে এবং ২৩ হাজার ৩৯৪টি কার্ড ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মূলত এই বিপুল সংখ্যক অযোগ্য বা ভুয়া রেশন কার্ড বাতিল করার ফলেই সরকারি কোষাগারের অপচয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে শুধু কার্ড বাতিলের কঠোর সিদ্ধান্তই নয়, গরিব মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন পর্যন্ত রেশন পাওয়ার জন্য একটি পরিবারের বার্ষিক আয়ের সীমা ছিল ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, বার্ষিক আয় ১.২ লক্ষ টাকার বেশি হলেই তারা রেশনের সুযোগ হারাতেন। তবে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকার এই সীমা বাড়িয়ে আড়াই লক্ষ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে, এবার থেকে যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, তারাও সরকারি রেশনের আওতায় আসতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রকৃত গরিব মানুষ এবং যাদের রেশনের একান্ত প্রয়োজন, তাদের সর্বাধিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য। আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকে এই নতুন আয়ের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবটিতে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হবে। এর ফলে বহু মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের পরিবার নতুন করে রেশনের আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বৈধ গ্রাহকদের জন্য নতুন কার্ড ইস্যু করার প্রক্রিয়াও খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেশনের কালোবাজারি ও অনিয়ম রুখতে রাজ্য সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তবে রেশন কার্ড বা আয়ের সীমা সংক্রান্ত এই পরিবর্তনের জেরে সাধারণ উপভোক্তাদের নতুন করে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে।





