কলকাতা শহরের দুর্গাপূজার মানচিত্রে ‘টালা প্রত্যয়’ এক অবিচ্ছেদ্য নাম। উত্তর কলকাতার এই পুজো গত কয়েক বছরে তার অভিনবত্ব ও জাঁকজমকের জন্য শহরবাসীর কাছে প্রবল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু সেই জনপ্রিয় পুজো কমিটির বিরুদ্ধেই এবার উঠল গুরুতর অভিযোগ। কাশীপুর-বেলগাছিয়ার সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি সরাসরি পুজো কমিটির বিরুদ্ধে সরকারি জমি, রাস্তা এবং পার্ক দখলের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনার জেরে উত্তর কলকাতার সংস্কৃতি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই অভিযোগ নিয়ে বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি সশরীরে কলকাতা পুরনিগমে যান। সেখানে তিনি পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে দেখা করে পুজো কমিটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান। বিধায়কের অভিযোগ, দুর্গাপূজা শেষ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুজো কমিটি তাদের কাঠামো এবং প্যান্ডেলের বিভিন্ন অংশ অপসারণ করেনি। ফলে টালা পার্ক এলাকা সংলগ্ন মাঠ এবং সামনের রাস্তা দিনের পর দিন দখল হয়ে রয়েছে।
রীতেশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, বিধায়ক হওয়ার পর এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি এই বেআইনি দখলের বিষয়টি নজরে আনেন। তিনি বলেন, “টালা পার্কের ওই মাঠে বেলগাছিয়া ইউনাইটেডের একটি টেন্ট ছিল, যেখানে ছোট ছোট শিশুরা খেলাধুলা ও প্র্যাকটিস করত। কিন্তু পুজো কমিটির দখলদারিতে মাঠটি এখন ব্যবহারের অযোগ্য। স্থানীয় শিশুদের খেলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিধায়কের চাপে রাস্তার উপর থেকে কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে মাঠ এখনও পুজো কমিটির দখলে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রীতেশ।
এই দখলের নেপথ্যে রাজনৈতিক মদতের অভিযোগ তুলেছেন বিধায়ক। রীতেশ তিওয়ারি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন প্রাক্তন শাসকদলের দিকে। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের হাত কমিটির মাথার উপরে থাকায় তারা এই সাহস দেখানোর সুযোগ পেয়েছে। পুজোর উদ্বোধনে কারা আসতেন এবং কাদের ছত্রছায়ায় এই দখলদারি চলছিল, তা আজ শহরবাসীর কাছে জলবৎ তরলং।”
বিধায়কের এই পদক্ষেপের পর স্বভাবতই চাপ বেড়েছে টালা প্রত্যয় পুজো কমিটির ওপর। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিধায়কের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, পুজোর মরশুমের বাইরেও কাঠামো ফেলে রেখে মাঠ দখল করে রাখার বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুর কমিশনারকে দেওয়া অভিযোগপত্রে রীতেশ তিওয়ারি অবিলম্বে মাঠটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার জল কতদূর গড়াবে এবং পুরসভা পরবর্তীকালে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে রীতেশ তিওয়ারির এই হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এলাকায় দখলদারি আর বরদাস্ত করা হবে না।





