কিউবার ওপর কি নজর ট্রাম্পের? রাউল কাস্ত্রোকে দোষী সাব্যস্ত করে ‘মুক্তির’ ডাক মার্কিন প্রেসিডেন্টের

তিন দশক আগের একটি পুরনো ঘটনার রেশ ধরে আবারও উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি। কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ৯৪ বছর বয়সি রাউল কাস্ত্রোকে একটি মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করল আমেরিকার আদালত। আর এই রায়ের পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। ট্রাম্প সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “এবার আমরা কিউবাকে মুক্ত করব।” এই মন্তব্য কিউবা দখলের ইঙ্গিত নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের নতুন মোড়, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালে। সেই সময় কিউবার সামরিক জেট দুটি অসামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে নামিয়ে আনে। এই ভয়াবহ ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। মার্কিন আদালতের অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন কিংবদন্তি ফিদেল কাস্ত্রোর ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রো এবং লোরেনজো আলবের্তো পেরেজ-পেরেজ। তাঁদের বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিককে খুন, ষড়যন্ত্র এবং অসামরিক বিমান ধ্বংস করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মিয়ামির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রাউল কাস্ত্রোকে হয় আত্মসমর্পণ করতে হবে, নয়তো জেলযাত্রার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আক্রমণাত্মক মনোভাবের পেছনে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প জানান, আমেরিকার বর্তমান বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়োর পূর্বপুরুষরা কিউবার বাসিন্দা ছিলেন। এছাড়া কিউবার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর সিআইএ-র তীক্ষ্ণ নজরদারি রয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা কিউবাকে খুব ভালো করে চিনি। সেখানকার বাসিন্দাদের এই দুঃসময় থেকে আমরা মুক্ত করব এবং কিউবাকে স্বাধীন করব।”

এই পরিস্থিতিতে চুপ করে বসে নেই হাভানা। কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল বারমুডেজ আমেরিকার এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় তিনি লিখেছেন, “কিউবার বিপ্লবকে কালিমালিপ্ত করার জন্য আমেরিকা একরাশ হতাশা থেকে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ আনছে। এর কোনো আইনি মেরুদণ্ড নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং লাতিন আমেরিকার ওপর আমেরিকার প্রভাব বিস্তারের এক নতুন কৌশল। ট্রাম্পের ‘কিউবা মুক্ত করার’ ডাক বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে। রাউল কাস্ত্রো, যিনি কিউবার বিপ্লবের অন্যতম প্রধান মুখ, তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকার এমন পদক্ষেপ কিউবা-মার্কিন সম্পর্কে এক চিরস্থায়ী তিক্ততা তৈরি করল। এখন দেখার বিষয়, কিউবার এই প্রবীণ নেতা আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটেন নাকি এই রাজনৈতিক উত্তেজনা শেষপর্যন্ত কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক সংকটের দিকে মোড় নেয়। আপাতত বিশ্বের নজর এখন হাভানা এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy