মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নিজের প্রথম দিল্লি সফরে পা রেখেই অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একদফা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরেছেন তিনি। তবে আজকের দিনের হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচি হলো বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং এটি প্রশাসনিক এবং কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের প্রথম বিজেপি শাসিত সরকারের কাজের দিশা এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের উন্নয়নের রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে নবগঠিত সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেই রিপোর্টও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু হতে চলেছে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে জর্জরিত রাজ্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী কোনো বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের আর্জি জানান কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। রাজ্যের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা এবং উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তার বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে প্রধান স্থান পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্পে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য কীভাবে সমন্বয় সাধন করবে, তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর আজকের সূচি অত্যন্ত ঠাসা। সকালের শুরুতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজ্যে সামরিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে রাজনাথের সঙ্গে বিশেষ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রূপদী মুর্মু এবং উপ-রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। গতকালের পর আজও অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, শুভেন্দু অধিকারীর এই দিল্লি সফর রাজ্যবাসীর জন্য বড় কোনো বার্তা বয়ে আনে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বাংলা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের পূর্ণ সমর্থন আদায়ে এই সফর সফল হলে, আগামী দিনে বাংলার চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।





