দক্ষিণ দিনাজপুরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বালুরঘাট-হিলি নতুন ব্রড গেজ লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ নিল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। সম্প্রতি রেলের জেনারেল ম্যানেজার (নির্মাণ) শ্রী আশীষ বনসাল এই সেকশনের চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত পরিদর্শন করেন। সীমান্ত এলাকায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
প্রায় ১,১৮১.০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ২৯.২৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫৬.৩৮ হেক্টর জমির পুরোটা ইতিমধ্যেই অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং তা রেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হয়েছে।
পরিদর্শনকালে শ্রী বনসাল প্রকল্পের প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি মেজর ব্রিজ, ৪৩টি মাইনর ব্রিজ, অত্যাধুনিক স্টেশন ভবন, রোড ওভার ব্রিজ (ROB) এবং রোড আন্ডার ব্রিজ (RUB) নির্মাণের কাজ। ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে রেল। কাজের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি সুরক্ষা বিধি মেনে দ্রুত কাজ শেষ করার ওপর জোর দিয়েছেন জেনারেল ম্যানেজার।
শুধু হিলি সেকশন নয়, বালুরঘাট-কুমেদপুর এবং লাভা-কুমেদপুর সেকশনে চলমান ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (EPC) কাজের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়েছে। ২১ মে, ২০২৬ তারিখে ট্রলি পরিদর্শনের মাধ্যমে কাজের সুরক্ষা ও পরিকাঠামোগত দিকগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এই সময় কাটিহার ডিভিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুরক্ষা মান উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও নিরাপদ রেল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। হিলি পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হলে এই সীমান্ত অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।





