রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) কবে মিলবে, তা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন। নবান্নের মসনদে বদল আসতেই সেই প্রত্যাশা এখন আকাশছোঁয়া। রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকেই সপ্তম বেতন কমিশনে সিলমোহর দিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার, যা সরকারি কর্মীদের কাছে এক বড় জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে সকলের নজর এখন ডিএ-র দিকে।
সূত্র মারফত খবর পাওয়া গিয়েছে, সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ নিয়ে জট কাটাতে আগামী ৩০ মে, শনিবার নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বৈঠক ঘিরে কর্মী মহলে তুমুল উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে গত ১৮ মে রাজ্য মন্ত্রিসভার নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন যে, মন্ত্রিসভার প্রাথমিক বৈঠকে ডিএ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা না হলেও, বিষয়টি সরকারের অত্যন্ত অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই বৈঠক প্রসঙ্গে ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “৩০ মে মুখ্যমন্ত্রী ডিএ নিয়ে বৈঠকে বসবেন। আমাদের সংগঠনের যাবতীয় তথ্য, ইমেল আইডি ও যোগাযোগ নম্বর চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। আমরা এবং আরও দুটি সংগঠন আমাদের দাবি ও তথ্য জমা দিয়েছি। আমরা আশাবাদী যে এই বৈঠকে সদর্থক কোনো বার্তা পাওয়া যাবে।”
উল্লেখ্য, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে সরকারি কর্মীরা বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন, অনশন ও বিক্ষোভ চালিয়েছিলেন। তৎকালীন সরকারের আমলে ডিএ বৃদ্ধি তো দূরের কথা, কর্মীদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে চরম অবহেলা দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক ডিএ আন্দোলনরত কর্মীদের ‘ঘেউ ঘেউ’ করার সঙ্গে তুলনা করা। সরকারি কর্মীদের কুকুরের সঙ্গে তুলনা করার ওই মন্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, যা রাজনৈতিক পালাবদলের অন্যতম কারণ হিসেবেও মনে করা হচ্ছে।
সেই জমানার অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠনের পর সপ্তম বেতন কমিশনে সরকারি অনুমোদন এবং ডিএ নিয়ে আলোচনার এই উদ্যোগ সরকারি কর্মীদের মনে নতুন করে উদ্দীপনা জাগিয়েছে। এখন ৩০ মে-র সেই কাঙ্ক্ষিত বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছেন রাজ্যের হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী। সকলে চাইছেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার তাদের হকের টাকা মিটিয়ে দিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার পথ প্রশস্ত করবে। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ৩০ মে-র বৈঠকে ডিএ সংক্রান্ত কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তবে তা নতুন সরকারের প্রতি কর্মীদের আস্থা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।





