সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের আড্ডা—সর্বত্র এখন একটাই নাম, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) বা সংক্ষেপে সিজেপি। মিম পেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, অবিশ্বাস্য গতিতে এই পেজটি দেশের তাবড় রাজনৈতিক দলের প্রভাবকে ছাপিয়ে গেছে। ইনস্টাগ্রামে বিজেপির মতো শাসকদল বা কংগ্রেসের মতো প্রধান বিরোধী দলকেও জনপ্রিয়তা ও ফলোয়ার সংখ্যায় পেছনে ফেলে এক অভাবনীয় রেকর্ড গড়েছে এই নতুন অনলাইন সেনসেশন। মাত্র কয়েক দিনেই ১৮.৮ মিলিয়নের বেশি মানুষ এই পেজের সাথে যুক্ত হয়েছেন।
প্রশ্ন উঠছে, এটি কি তবে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল? সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দেশে এক নতুন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির। যদিও এই পেজটি শুধুমাত্র অনলাইন মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকার পরিকল্পনা করেছে, তবুও এর কার্যকলাপে রাজনৈতিক দলের চেয়েও বেশি গুরুত্ব ফুটে উঠছে। এরা দেশের চলমান সমস্যাগুলোর ওপর ভিত্তি করে এক আকর্ষণীয় ও সাহসী ‘ইস্তাহার’ প্রকাশ করেছে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দেশের যুবসমাজ ও জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্ম এই পেজের প্রতিটি পোস্টের সাথে একাত্ম বোধ করছে।
ইস্তাহারে যেসব দাবি ও প্রস্তাব তোলা হয়েছে তা রীতিমতো আলোচনার ঝড় তুলেছে:
১. দলবদলকারী বিধায়ক ও সাংসদদের পরবর্তী ২০ বছর নির্বাচনে দাঁড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব।
২. আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
৩. অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের রাজ্যসভায় মনোনীত করার প্রথা বন্ধ করা।
৪. ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার মতো ঘটনায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি।
৫. সিবিএসই (CBSE)-তে টাকা দিয়ে নম্বর বাড়ানো বা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৬. নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সুরক্ষা ও বিচারের দাবি।
এই পার্টি তৈরির নেপথ্যে রয়েছে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। সম্প্রতি বেকার তরুণ-তরুণীদের ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করার পর দেশজুড়ে প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৬ মে জন্ম নেয় এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। যদিও এটি খাতায়কলমে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, তবুও এর জনপ্রিয়তা বুঝিয়ে দিচ্ছে দেশের মানুষ প্রচলিত রাজনীতির বাইরে অন্য কিছুর প্রত্যাশা করছে।
এই পেজের অনুগামীদের তালিকায় রয়েছেন নামী ইনফ্লুয়েন্সার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও। মূলত বেকারত্ব, দুর্নীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার গলদ নিয়ে এই পেজের খোলামেলা আলোচনা এখন দেশের মূল আলোচনার কেন্দ্রে। তবে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই সিজেপি-র জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। অনেকেই মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তারা কি পারবে কোনো প্রকৃত পরিবর্তনের ডাক দিতে? নাকি সময়ের স্রোতে এটি কেবল একটি ট্রেন্ড হয়েই থাকবে? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত নেটপাড়ার রাজা এখন এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।





