রাজ্যে দুর্নীতি ও কাটমানি বিরোধী কড়া অভিযানের মাঝেই ফের এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। জমি মাফিয়াদের সঙ্গে গোপন আঁতাত এবং এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বুনিয়াদপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল সরকার। কেবল টাকা হাতানোই নয়, টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা রাজনীতিতে।
জমি মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘মেগা সিন্ডিকেট’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুনিয়াদপুর পুরসভা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একটি বড়সড় সিন্ডিকেট বা মাফিয়া চক্র সক্রিয় ছিল। অভিযোগ, পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল সরকার তাঁর পদের প্রভাব খাটিয়ে এবং স্থানীয় কয়েকজন কুখ্যাত জমি মাফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এই চক্রটি চালাতেন। কোনো জমি রেজিস্ট্রি বা নির্মাণ কাজ করতে গেলেই মোটা অঙ্কের ‘কাটমানি’ বা তোলা দাবি করা হতো এই চক্রের পক্ষ থেকে।
১৪ লক্ষ টাকার তোলাবাজি ও খুনের হুমকি
সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, একটি জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কমল সরকার এবং তাঁর দলবল ওই ব্যবসায়ীর ওপর চড়াও হয় এবং নজিরবিহীনভাবে ১৪ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করে। প্রাণভয়ে ব্যবসায়ী সেই টাকা দিতে বাধ্য হলেও, পরবর্তীতে আরও টাকার জন্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল এবং প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হতে থাকে।
পুলিশের বয়ান: অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এবং প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলার পর, পুলিশ আর দেরি করেনি। প্রাক্তন পুরপ্রধান কমল সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রে আর কোন কোন বড় মাথার হাত রয়েছে, তা জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অস্বস্তিতে শাসকদল, সুর চড়াচ্ছে বিরোধী শিবির
বুনিয়াদপুরের প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা এই তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে অস্ত্র করে আসরে নেমেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের অভিযোগ, শাসকদলের শীর্ষ স্তরের নেতাদের মদত ছাড়া একজন প্রাক্তন পুরপ্রধান এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে জমি মাফিয়াদের নিয়ে সিন্ডিকেট রাজ চালাতে পারেন না। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আইন আইনের পথেই চলবে এবং দল কোনো ধরনের দুর্নীতি বা তোলাবাজিকে বরদাস্ত করে না। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।





