পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভোট মিটলেও পারদ চড়ছেই। এবার রাজ্যে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে সরব হলেন ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে অবিলম্বে আইনি ‘ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করতে হবে। এই দাবিতে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের নতুন সরকারের একাধিক নীতি নিয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
‘২৭ লক্ষ ভোটারের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না’
কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ভাঙড়ের বিধায়ক স্পষ্ট জানান, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওশাদ বলেন, “প্রশাসনিক জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম আজ ভোটার তালিকায় নেই। এটা তাঁদের মৌলিক অধিকারের ওপর বড় আঘাত। আমরা দাবি করছি, একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অত্যন্ত দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্ত নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় পুনর্বহাল করতে হবে।”
নতুন সরকারের ‘বুলডোজার নীতি’ ও হকার উচ্ছেদ নিয়ে তোপ
কেবল ভোটার তালিকাই নয়, রাজ্যে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারের কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও এদিন তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন নওশাদ সিদ্দিকী। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি দখলদারি হটাতে যে ‘বুলডোজার’ চালানো হচ্ছে এবং গরিব হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন তিনি।
ভাঙড়ের বিধায়কের অভিযোগ, কোনো বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই যেভাবে গরিব মানুষের রুটি-রুজিতে টান দেওয়া হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
নওশাদের কড়া বার্তা: “উন্নয়নের নামে গরিব মানুষের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া বা হকারদের পেটে লাথি মারা কোনো জনকল্যাণমুখী সরকারের কাজ হতে পারে না। বুলডোজার সংস্কৃতি এ রাজ্যে চলতে দেওয়া হবে না।”
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার মতো সংবেদনশীল ইস্যু তুলে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ালেন নওশাদ, তেমনই বুলডোজার ও হকার উচ্ছেদ নিয়ে সরব হয়ে আমজনতার সেন্টিমেন্টকেও স্পর্শ করতে চাইলেন তিনি। আইএসএফ বিধায়কের এই জোড়া ফলার আক্রমণের মুখে নতুন রাজ্য সরকার এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।





