সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি— এই ৫টি দেশে টানা ৬ দিনের ম্যারাথন কূটনৈতিক সফর শেষ করে দেশে ফিরেই অ্যাকশন মোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার রাতে রোম থেকে দিল্লিতে পা রাখার পর, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় ‘সেবা তীর্থ’-এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্ররাষ্ট্রমন্ত্রী— সকলাকেই উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার চরম অশান্তি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর সংকট এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আলোচনার কেন্দ্রে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও ‘হরমুজ প্রণালী’র সংকট
বিশ্ব রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা। বিশেষ করে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া তীব্র সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এই অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী, যা সরাসরি আঘাত করছে ভারতের অর্থনীতিকে। আজকের বৈঠকে এই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে বড়সড় রণকৌশল তৈরি হতে পারে।
১ সপ্তাহে দু’বার মহার্ঘ পেট্রল-ডিজেল, আমজনতার পকেটে টান
এই ক্যাবিনেট বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যার ঠিক আগেই দেশজুড়ে জ্বালানির দাম এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত ১৫ মে পেট্রল-ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বৃদ্ধির পর, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই দ্বিতীয়বার দাম বাড়ানো হয়েছে।
দিল্লিতে পেট্রল: প্রতি লিটার ৯৮.৬৪ টাকা (৮৭ পয়সা বৃদ্ধি)
দিল্লিতে ডিজেল: প্রতি লিটার ৯১.৫৮ টাকা (৯১ পয়সা বৃদ্ধি)
কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই-সহ দেশের সব ক’টি মেট্রো শহরেই জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়ে আজ মন্ত্রীদের সঙ্গে ‘মিড-টার্ম রিভিউ’ বা মধ্যবর্তী পর্যালোচনা করবেন মোদি।
দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতে প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বেই দেশবাসীকে গণপরিবহণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে রেল ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দ্রুত বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মেলোনির সঙ্গে মেগা বৈঠক ও ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’
এই জরুরি বৈঠকের ঠিক আগেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেরেছেন মোদি। ইতালি সফরকালে দুই দেশের সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ভারত-ইতালি সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Special Strategic Partnership)-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মোদি জানিয়েছেন, মেলোনির সঙ্গে এই আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
৫ দেশের সফল কূটনৈতিক সফর শেষে দেশের মাটিতে পা রাখতেই যেভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মোদি মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসছে, তাতে মনে করা হচ্ছে আজ রাতেই বড় কোনো প্রশাসনিক বা অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্র।





