আপনি কি নতুন একটি স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবছেন? কিংবা ভাবছেন আগামী কোনো উৎসবের সেলে ডিসকাউন্টে আপনার প্রিয় ডিভাইসটি লুফে নেবেন? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে একটি অত্যন্ত সতর্কবার্তা। কারণ, সেই চেনা ডিসকাউন্ট বা অফারের দিন বোধহয় শেষ হতে চলেছে! বিশ্ববাজারে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে খুব শীঘ্রই সাধারণ বাজেট ফোন থেকে শুরু করে ফ্ল্যাগশিপ হ্যান্ডসেট—সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
কেন হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধি? টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল ভিলেন হলো গ্লোবাল চিপ ক্রাইসিস এবং মেমোরি ইউনিটের আকাশছোঁয়া দাম।
AI ডাটা সেন্টারের দাপট: বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। Alphabet, Amazon, Meta এবং Microsoft-এর মতো টেক জায়ান্টরা AI ডাটা সেন্টার তৈরিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। এর ফলে স্যামসাং, মাইক্রন বা এসকে হাইনিক্সের মতো বড় চিপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি সাধারণ ফোনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ডায়নামিক র্যাম’ (DRAM) তৈরি কমিয়ে হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপ তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছে।
র্যাম এবং স্টোরেজের ঘাটতি: গ্লোবাল কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে DRAM-এর দাম ১৭০%-এর বেশি বেড়েছে এবং আগামী কোয়ার্টারেও মেমোরির দাম আরও প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টাকার অবমূল্যায়ন ও ইনপুট কস্ট: একদিকে বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের জোগানে তুমুল ঘাটতি, অন্যদিকে ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ে যাওয়া—এই দুইয়ের জোড়া ফলায় ভারতে মোবাইল তৈরির খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে।
ইতিমধ্যেই দাম বাড়িয়েছে বহু ব্র্যান্ড নতুন কোনো ফোন লঞ্চ হওয়ার পর সাধারণত কিছুদিন গেলে তার দাম কমে। কিন্তু বর্তমান ট্রেন্ড সম্পূর্ণ উল্টো! Samsung Galaxy M36 5G, OnePlus 15R এবং Nothing Phone 3a Lite-এর মতো জনপ্রিয় মডেলগুলির দাম লঞ্চের পর কমার বদলে উল্টে কয়েক হাজার টাকা বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, Vivo, Realme এবং Xiaomi-এর মতো বাজেট ফ্রেন্ডলি ব্র্যান্ডগুলিও তাদের বেশ কিছু মডেলের দাম ১০% থেকে ৩৬% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেন এখনই কেনার সঠিক সময়? বাজার বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই চিপের ঘাটতি রাতারাতি কাটার নয়। অন্তত আগামী বছরের আগে নতুন কোনো বড় চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে, সামনের দিনগুলিতে যে কোনো নতুন স্মার্টফোনের বেস ভ্যারিয়েন্টের দাম বর্তমানের চেয়ে অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বেশি হতে পারে।
তাই আপনি যদি কোনো ফোন পছন্দ করে রেখে থাকেন, তবে উৎসবের সেল বা পরবর্তী ডিসকাউন্টের ভরসায় বসে না থেকে এখনই তা কিনে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ, অপেক্ষা করলে হয়তো পরে আরও বেশি টাকা খরচ করতে হতে পারে!
টেক দুনিয়ার এমন সব চাঞ্চল্যকর এবং ব্রেকিং খবরের আপডেট সবার আগে পেতে ফলো করুন DailyHunt।





