নির্বাচন কমিশনের তালিকায় জীবিত থেকেও যিনি খাতায়-কলমে ‘মৃত’ হয়ে গিয়েছিলেন, সেই বহুল চর্চিত তৃণমূল কাউন্সিলর এবার শ্রীঘরে! হুগলির ডানকুনিতে একটি পুরনো মারধরের মামলায় গ্রেফতার হলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে। তবে একা সূর্য দে নন, পুলিশি অভিযানে একই সাথে জালে ধরা পড়েছেন ডানকুনির আরও ৩ দাপুটে তৃণমূল নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডানকুনি পৌর এলাকায়।
একই সাথে ধৃত ৪ তৃণমূল নেতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগের একটি পুরনো মারধরের মামলায় বুধবার রাতে ডানকুনি থানার পুলিশ এই সাঁড়াশি অভিযান চালায়। ধৃতদের তালিকায় কাউন্সিলর সূর্য দে ছাড়াও রয়েছেন:
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় (তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতি)
প্রভাশিস মহিশাল (তৃণমূলের যুব সভাপতি)
রাকেশ মাল (১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা)
কে এই সূর্য দে? কেন এই ‘মৃত’ বিতর্ক? উল্লেখ্য, গত বছর নির্বাচন কমিশনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর সূর্য দে-র নামের পাশে ‘মৃত’ লেখা রয়েছে। জীবিত থাকা সত্ত্বেও তালিকায় নিজেকে মৃত দেখে অভিনব প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন তিনি। সটান দলবল নিয়ে চলে গিয়েছিলেন শ্মশানে! নির্বাচন কমিশনকে ব্যঙ্গ করে নিজের সৎকার করার দাবি তুলে সেই সময় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন তিনি।
থানায় তৃণমূল কর্মীদের ভিড় বুধবার রাতে এই হেভিওয়েট গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার সকালে ডানকুনি থানার সামনে ভিড় জমান শাসকদলের বেশ কিছু নেতাকর্মী। ঠিক কী কারণে এবং কোন পুরনো মামলার ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেফতার করা হলো, তা নিয়ে পুলিশের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনাও করেন তাঁরা।
নির্বাচনের পর ডানকুনির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে ৪ তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ নাকি নিছকই আইনশৃঙ্খলার বিষয়—তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জলঘোলা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সবচেয়ে ব্রেকিং এবং এক্সক্লুসিভ খবরের আপডেট সবার আগে পেতে ফলো করুন DailyHunt।





