প্রায় এক বছর পর আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক নিছক রুটিন মাফিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী কৌশল। একদিকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের খতিয়ান নেওয়া—সব মিলিয়ে আজকের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকে প্রতিটি মন্ত্রক এবং সরকারি দপ্তরকে তাদের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে বলা হয়েছে। কোন মন্ত্রক কতটা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো কতটা সফল হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট ও প্রেজেন্টেশন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি, যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং তার প্রভাব মোকাবিলায় দেশের অর্থনীতিকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
তবে দিল্লিতে এখন সব থেকে বড় চর্চার বিষয় হলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল। সরকার গঠনের পর প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এবং আগামী বছরের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে মন্ত্রিসভায় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপি ভালো ফল করার পর দলের অন্দরে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক স্তরে নতুন মুখ আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়ে তরুণ ও নতুন প্রজন্মের নেতাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সামাজিক সমীকরণ মাথায় রেখে মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে। বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাম্প্রতিক একাধিক বৈঠক এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই পূর্ণাঙ্গ বৈঠক কার্যত সেই পরিবর্তনেরই একটি ব্লু-প্রিন্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আজ প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকের পর মন্ত্রিসভার সেই কাঙ্ক্ষিত রদবদল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে কি না।





