১১ মিলিয়ন ফলোয়ারের রেকর্ড, ইনস্টাগ্রাম থেকে হঠাৎ উধাও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’! নেপথ্যে কী?

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ এবং কোটি কোটি ভিউয়ারশিপের নজির গড়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে এই তরুণদের সংগঠনটি। কিন্তু গত রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এক চাঞ্চল্যকর খবর—ইনস্টাগ্রাম থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে সিজেপি-র অফিসিয়াল পেজ।

অ্যাকাউন্টটি উধাও হওয়ার পরপরই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র জল্পনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন, ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও বিস্ফোরক সব রাজনৈতিক মিমের কারণে হয়তো মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ পেজটি স্থগিত করেছে, অথবা কোনো হ্যাকার গোষ্ঠী এর পেছনে সক্রিয়। তবে অবাক করা বিষয় হলো, এই অস্থিরতার মধ্যেই পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা রকেটের গতিতে বেড়েছে। গত রাতে যেখানে ফলোয়ার সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০ লাখ, বর্তমানে তা ১১ মিলিয়নের (১ কোটি ১০ লক্ষ) মাইলফলক অতিক্রম করেছে। কারিগরি ত্রুটি নাকি পরিকল্পিত সেন্সরশিপ—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, বর্তমানে পেজটি পুনরায় সচল হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সমর্থকদের মধ্যে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা ও বস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র অভিজিৎ দিপকে। ৩০ বছর বয়সী এই তরুণ ভিডিও বার্তায় সরাসরি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। যুবসমাজের কণ্ঠস্বর দমানোর অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “সরকার কেন তরুণদের ভিন্নমত পোষণের অধিকার কেড়ে নিতে মরিয়া?” ভারতের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং অভিযোগ করেন যে, তরুণদের কণ্ঠরোধে প্রশাসন যতটা তৎপর, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ততটা নয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করে অভিজিৎ দিপকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “যদি আপনি নিজেকে সাহসী ও শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী বলে দাবি করেন, তবে সংবাদ সম্মেলনের মুখোমুখি হয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর জবাব দিন।” তিনি আরও বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি মূলত ভারতের বেকার যুবকদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেও এই আন্দোলনকে থামানো যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ই মে ভারতের প্রধান বিচারপতির বেকারত্ব বিষয়ক মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই আরশোলা বাহিনীর বা সিজেপি-র জন্ম। “ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস”—এই অদ্ভুত অথচ শ্লেষাত্মক স্লোগানকে সামনে রেখে নিট (NEET) পরীক্ষা বিতর্ক, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের মতো বাস্তব বিষয়গুলোকে ব্যঙ্গাত্মক মিমের মাধ্যমে তুলে ধরছে তারা। মেটা বা ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সাময়িক বিভ্রাট নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, ভারতীয় রাজনীতিতে যে এক নতুন ধারার ‘ভার্চুয়াল প্রতিবাদ’ শুরু হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy