রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ক্ষমতার পালাবদলের পর আজ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী রইল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার এই হাই-ভোল্টেজ আসনে চলছে পুনর্নির্বাচন। একদা যে ফলতাকে তৃণমূলের ‘দুর্জয় দুর্গ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো, সেই এলাকাতেই আজকের ভোটের ছবিটা একেবারেই ভিন্ন। নির্বাচনের দিন যেখানে প্রতিটি বুথে ঘাসফুল শিবিরের দাপট দেখার জন্য মানুষ অভ্যস্ত ছিল, আজ সেখানে অধিকাংশ বুথেই দেখা মিলল না তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো এজেন্ট।
সকাল থেকে ফলতার ২৮৫টি বুথের প্রায় প্রতিটিটিতেই বুক চিতিয়ে বসেছেন বিজেপি কর্মীরা। অন্যদিকে, জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা আজ সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজে। কোনো রকম উত্তেজনার তোয়াক্কা না করে স্থানীয় দোকানে ঘুগনি-মুড়ি খেয়ে দেবাংশু পাণ্ডা এলাকা ঘুরে দেখছেন। তাঁর আত্মবিশ্বাসী শরীরী ভাষা স্পষ্ট জানান দিচ্ছে, ফলতায় পদ্ম ফোটা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। কোনো রকম অশান্তি ছাড়াই বুথগুলোতে লাইন দিয়ে ভোট দিচ্ছেন ২ লক্ষ ৩৬ হাজারের বেশি ভোটার। যেন উৎসবের আমেজই এখন ফলতার বুথগুলোতে।
নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ময়দান ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং ভোটের দিন এজেন্টদের এই নজিরবিহীন আত্মসমর্পণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। এই পরিস্থিতি নিয়ে আজ রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সরাসরি নিশানা করেছেন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে। নির্বাচনের প্রাক্কালে আইপিএস অজয়পাল শর্মাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করা জাহাঙ্গির খানকে বিঁধে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অনেক শুনেছিলাম, ধুরন্ধর নাকি! সে কোথায় গেল? পুলিশ ছাড়া লড়ার ক্ষমতা লাগে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে, কিন্তু পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া আমরা এতদিন লড়েছি, জিতে এসেছি। এটা সবার কাজ নয়।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের এভাবে ব্যাকফুটে চলে আসা এবং শেষ মুহূর্তে রণে ভঙ্গ দেওয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল শিবিরে এক বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত। একদা শাসকদলের দাপটের কেন্দ্রে আজ কার্যত বিরোধীশূন্য বুথ। ফলতার মানুষের এই নীরবতা এবং তৃণমূল এজেন্টের অনুপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে, রাজ্যের রাজনৈতিক হাওয়া কোন দিকে বইছে। আজ ভোটের দিন কোনো বড় অশান্তির খবর পাওয়া না গেলেও, ফলতার এই একতরফা ছবি তৃণমূলের জন্য যে এক বড় ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য। এখন ফলাফলের দিনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।





