আড়াই কোটির হদিস মিলল শান্তনুর পৈতৃক বাড়িতে! ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে মুখ খুললেন দাউদ শেখ

রাজ্য রাজনীতিতে দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি (ED)-এর নজরে এবার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। তাঁর পৈতৃক বাড়িতে হানা দিয়ে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। গোয়েন্দাদের দাবি, ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস খুঁজতে গিয়েই উঠে এসেছে কুলির ব্যবসায়ী দাউদ শেখের নাম। টানা ১২ ঘণ্টা ইডির ম্যারাথন জেরার মুখে পড়ে দাউদ শেখ কী জানালেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

জানা গেছে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈতৃক ভিটায় ইডির তল্লাশি অভিযানের সময় এক গোপন কুঠুরি থেকে উদ্ধার হয় এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। উদ্ধার হওয়া টাকার অংক দেখে রীতিমতো বিস্মিত আধিকারিকরা। এই টাকার সাথে শান্তনুর পাশাপাশি নাম জড়িয়েছে দাউদ শেখের। স্থানীয় পর্যায়ে কুলির ব্যবসার আড়ালে দাউদ শেখের বিপুল উত্থান নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল। ইডি সূত্রে খবর, দাউদ শেখ শান্তনুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং এই বিপুল টাকার লেনদেনের সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই জেরা প্রক্রিয়া বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। ইডির আঞ্চলিক দপ্তরে দাউদ শেখকে বসিয়ে দফায় দফায় জেরা করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। জেরার মুখে দাউদ শেখ প্রথমে অসংলগ্ন উত্তর দিলেও পরে চাপের মুখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করেছেন বলে সূত্রের খবর। তাঁর দাবি, এই টাকার পুরোটাই তাঁর বৈধ ব্যবসার উপার্জিত অর্থ। দাউদের বয়ান অনুযায়ী, কুলি ও লজিস্টিক ব্যবসা থেকে পাওয়া লাভের অংশ তিনি শান্তনুর পৈতৃক বাড়িতে নিরাপত্তার খাতিরে রেখেছিলেন। তবে আড়াই কোটির মতো বড় অংকের নগদ টাকা কেন ব্যাংকিং চ্যানেলে না রেখে বাড়িতে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি।

তদন্তকারীদের পাল্টা দাবি, দাউদ শেখের ব্যবসার আর্থিক নথিপত্রের সাথে উদ্ধার হওয়া নগদ টাকার কোনো সামঞ্জস্য নেই। আয়কর জমার তথ্যের সাথে এই বিপুল অর্থের কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করতে পারেননি তিনি। গোয়েন্দাদের ধারণা, এটা কোনো বড় দুর্নীতি চক্রের ‘কালো টাকা’, যা সাদা করার প্রক্রিয়া চলছিল। শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন বলে খবর। ইডি এখন শান্তনুর অবস্থান জানার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আড়াই কোটির মতো টাকা কীভাবে শান্তনুর পৈতৃক বাড়িতে এল এবং কেন তা দাউদ শেখের মত একজন ব্যবসায়ী হেফাজত করছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে ইডি এখন দাউদ শেখের ঘনিষ্ঠদের বয়ান রেকর্ড করছে এবং ওই বাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখছে। আগামী দিনে এই দুর্নীতি মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy