রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার পরও বিধানসভার অলিন্দে রাজনৈতিক তরজা থামার নাম নেই। এবার নবগঠিত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার (Leader of Opposition) পদ নিয়ে তৈরি হলো চরম আইনি বিতর্ক। বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে যাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার তোড়জোড় চলছে, তা নিয়ে এবার সরাসরি নিয়মভঙ্গের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিধানসভার সচিব (Assembly Secretary)। সচিবের এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।
“তৃণমূল নিয়ম মানেনি, ১০% বিধায়ক কোথায়?”
বিধানসভার সচিব স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংসদীয় বা বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলকে ‘অফিশিয়াল বিরোধী দল’ এবং সেই দলের নেতাকে ‘বিরোধী দলনেতা’-র স্বীকৃতি পেতে গেলে একটি ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার মোট আসন সংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশ আসন (West Bengal Assembly-র ক্ষেত্রে যা ২৯টি আসন) সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের থাকা বাধ্যতামূলক।
সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী:
“তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান বিধায়ক সংখ্যা সেই ম্যাজিক ফিগার বা ১০ শতাংশের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে নিয়ম না মেনে বা নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যদি তারা বিরোধী দলনেতার পদের দাবি করে, তবে তা আইনত গ্রাহ্য হবে না। তৃণমূল এখানে সংসদীয় রীতিনীতি মানেনি।”
পদ নিয়ে ঝুলছে আইনি খাঁড়া?
সচিবের এই বার্তার পর বিরোধী দলনেতা পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন স্পিকার বা বিধানসভা সচিবালয় যদি এই নিয়মে অনড় থাকে, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতা পূর্ণাঙ্গ সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা নাও পেতে পারেন।
পাল্টা সুর ঘাসফুল শিবিরের
এদিকে বিধানসভার সচিবের এই দাবির পরই পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে এবং লোকসভাতেও একক বৃহত্তম বিরোধী দলকে আসন সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ার নজির রয়েছে। এটিকে নতুন বিজেপি সরকারের একতরফা ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ও ‘কণ্ঠরোধের চেষ্টা’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে তারা।
বিধানসভার এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত আদালতের দরজায় গড়ায়, নাকি রফা সূত্রে মেটে— এখন সেটাই দেখার।





