রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার তৃণমূলের অন্দরেই শুরু নজিরবিহীন গৃহদাহ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতনের বাড়ি সহ তাঁর পরিবার ও সংস্থার ১৭টি সম্পত্তিতে কলকাতা পুরসভার (KMC) পক্ষ থেকে ‘বেআইনি নির্মাণ’-এর নোটিস পাঠানো ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা কীভাবে দলেরই ‘নম্বর টু’-এর বাড়িতে নোটিস পাঠাল, তা নিয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই বিতর্ক এবার আছড়ে পড়ল বিধানসভার অধিবেশনেও। যেখানে এই নিয়ে তীব্র সরব হলেন ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষ।
“আমি নীতি নির্ধারক, নোটিসের বিষয়ে কিছুই জানি না”: ফিরহাদ হাকিম
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ও ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার একাধিক সম্পত্তিতে পুরসভার পক্ষ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নোটিস (Section 400(1)) জারি করা হয়েছে। এই ঘটনায় মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি বিধানসভার অলিন্দে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের দায় ঝেড়ে ফেলেন।
ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানান:
“কলকাতা পুরসভার আইন অনুযায়ী আমরা কেবল নীতি নির্ধারক (Policy Makers)। এই নোটিস মিউনিসিপ্যাল কমিশনার বা এক্সিকিউটিভ উইং থেকে স্বাধীনভাবে দেওয়া হয়েছে। এর সাথে আমাদের কোনো যোগ নেই, আমি আগে থেকে এই বিষয়ে কিছুই জানতাম না।”
মেয়রের এই সাফাইয়ের পরেও জল্পনা থামছে না। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, দলীয় পুরবোর্ড থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মেয়রের অজান্তে দলের শীর্ষ নেতার বাড়িতে বুলডোজার চালানোর নোটিস ঝোলানো সম্ভব?
“মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা”: কুণাল ঘোষ
অন্যদিকে, বিধানসভায় এই বিষয়ে মুখ খোলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বিজেপির নতুন সরকারকে আক্রমণ করার পাশাপাশি বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। কুণাল বলেন, “কিছু তৃণমূল নেতাকে টার্গেট করে সমাজমাধ্যমে এবং রাজনৈতিকভাবে মিথ্যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। দলনেতাদের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে যার নামে নোটিস এসেছে, আইনি স্তরে তিনিই এর যোগ্য জবাব দেবেন।”
ক্ষুব্ধ মমতা, আসরে বিজেপি সরকার
দলীয় সূত্রে খবর, এই নোটিস কাণ্ডে কলকাতা পুরসভার মেয়র ও মেয়র-ইন-কাউন্সিলদের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ববি হাকিমের কাছে জানতে চান, কীভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বাড়িতে এই ধরণের নোটিস পাঠানো হলো।
এদিকে, রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। সে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হোন বা অন্য কেউ। বেআইনি নির্মাণ প্রমাণিত হলে পুরসভা আইন মেনেই পদক্ষেপ করবে এবং নকশা দেখাতে না পারলে বুলডোজার চলবে।”
পুরসভার এই নোটিস ঘিরে আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ এবং হাইকোর্টের আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





