মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের (Chandranath Rath Murder Case) ঘটনার জল এবার কতদূর গড়াল? কারাই বা ছিল এই হাই-ভোল্টেজ হত্যাকাণ্ডের ব্লু-প্রিন্টের নেপথ্যে? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার এই হাই-প্রোফাইল মামলার জট খুলতে সরাসরি উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে আরও এক বিপজ্জনক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃতের নাম বিনয় রাই। ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় এনে আজ, বুধবারই তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে বলে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে।
সিবিআই সূত্রে খবর, বছর চল্লিশের বিনয় রাই মূলত উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের বাসিন্দা হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে বারাণসীতেই নিজের অপরাধের ঘাঁটি গেড়েছিলেন। সেখানে নিজেকে সম্পত্তি কেনাবেচার (রিয়েল এস্টেট) ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি, যাতে কেউ তাঁর আসল অপরাধের দুনিয়া সম্পর্কে টের না পায়। বারাণসীর এক শীর্ষ পুলিশকর্তা জানান, বারাণসীর স্থানীয় আদালতে বিনয়কে পেশ করে ইতিমধ্যেই ২ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়েছে সিবিআই। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথ রথকে সশরীরে গুলি করে খুনের ক্ষেত্রে বিনয়ের সরাসরি জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। বারাণসীর রিজার্ভ পুলিশ লাইন এলাকা থেকে তাঁকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাকড়াও করা হয়। উল্লেখ্য, বিনয়ের অপরাধের খতিয়ান অত্যন্ত দীর্ঘ। এর আগেও উত্তরপ্রদেশ ও অন্যান্য রাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে খুন ও খুনের চেষ্টার মতো একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের ঠিক দু’দিন পর, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর গাড়ি থামিয়ে বাইক চড়ে এসে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় গুলি। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) মায়াঙ্ক মিশ্র, রাজ সিং এবং ভিকি মৌর্য নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে। এরপর আদালতের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআই উত্তরপ্রদেশের বলিয়া থেকে রাজকুমার সিং নামে আরও এক কুখ্যাত শার্প শুটারকে জালে তোলে।
নতুন করে বিনয় রাই গ্রেফতার হওয়ায় এই হাই-ভোল্টেজ মামলায় ধৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ধৃত এই পাঁচজনই ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। ভাড়াতে খুনি বা শার্প শুটারদের এই বিপজ্জনক দলের সঙ্গে বাংলার কোনোও রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের যোগ রয়েছে কি না, সেটাই এখন সিবিআই-এর মূল আতসকাচের তলায়। গোটা ঘটনায় এখন সিবিআই আধিকারিকদের পাখির চোখ হল, এই খুনের মূল সুপারি বা কন্ট্রাক্ট কে বা কারা দিয়েছিল? ধৃতদের জেরা করে সেই আসল মাস্টারমাইন্ডের নামটাই এবার টেনে বের করতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই বারাণসী কানেকশন সামনে আসার পর চন্দ্রনাথ রথ খুনের রহস্যের জাল কি এবার সত্যিই গুটিয়ে এল? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য রাজনীতি।





