সন্দেশখালিতে ইডি (ED) আধিকারিকদের উপর নৃশংস হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির আক্রান্ত হওয়ার সেই ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে দিয়ে এবার গ্রেফতার হলেন শেখ শাহজাহানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী। মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করে ন্যাজাট সংস্কৃতির পুলিশ। এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারির পর উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি এবং সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই তৃণমূল নেত্রী হলেন সন্দেশখালি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা বসিরহাট জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী সবিতা রায় এবং অন্যতম সক্রিয় নেত্রী মিঠু সরদার। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ইডি আধিকারিকদের ওপর সংগঠিত হামলার ঘটনার পর থেকেই এই দুই নেত্রীর গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা গোপন তদন্তের পর, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ জানতে পারে যে তাঁরা দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে এক ঝটিকা অভিযান চালায়। প্রথমে তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় রাতেই তাঁদের গ্রেফতার করে ন্যাজাট থানায় নিয়ে আসা হয়।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর আগে রেশন বণ্টন মামলার তদন্তের সূত্রে সন্দেশখালির দাপুটে নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। সেই সময় আচমকা কয়েকশো মানুষের একটি দল কেন্দ্রীয় এজেন্সির ওপর চড়াও হয়। ইডি আধিকারিকদের বেধড়ক মারধর করা হয়, ভাঙচুর করা হয় তাঁদের গাড়ি। জাতীয় স্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই ঘটনায় অভিযোগ ওঠে, ইডির কাজ রুখতে এবং শাহজাহানকে আড়াল করতে এলাকা জুড়ে সুপরিকল্পিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, সেই দিন ধৃত সবিতা রায় এবং মিঠু সরদার ঘটনাস্থলে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং লাঠিসোটা নিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছিলেন।
পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র ছিল। এখানেই শেষ নয়, ধৃত এই দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসারও একাধিক মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। ভোটের পর বিরোধীদের বাড়ি ভাঙচুর, মারধর এবং এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস কায়েম রাখার ক্ষেত্রেও তাঁদের নাম জড়িয়েছিল। গ্রেফতারির পর বুধবার সকাল থেকেই ন্যাজাট থানায় দুই নেত্রীকে দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ। ইডি আক্রান্ত হওয়ার দিন কার নির্দেশে এই বিপুল জনতাকে জড়ো করা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনো বড়সড় আর্থিক লেনদেন বা সংগঠিত চক্র সক্রিয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।





