চলতি বিধানসভা নির্বাচনের সপ্তম দফার হাইভোল্টেজ ভোটের ঠিক আগেই এক বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তবে এই স্বস্তির সমান্তরালে তাঁর ওপর বসেছে আদালতের কড়া নজরদারির খাঁড়াও। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে তৃণমূলের এই হেভিওয়েট প্রার্থীকে আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে কিছু অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়কে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু পুরনো ফৌজদারি মামলা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচন কেন্দ্রিক অশান্তির আশঙ্কায় গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মামলার শুনানিতে তাঁর আইনজীবী সওয়াল করেন, ভোটের মুখে প্রার্থীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্থা ও গ্রেফতার করার চেষ্টা হতে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগামী ৪ জুন অর্থাৎ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত জাহাঙ্গির খানকে কোনও ভাবেই গ্রেফতার বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না পুলিশ।
আইনি রক্ষাকবচ দিয়ে স্বস্তি দিলেও, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের স্বার্থে জাহাঙ্গির খানের ওপর বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী:
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার বা প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও, তিনি ভোটের দিন নিজের বুথ এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও নিয়মবহির্ভূতভাবে জমায়েত বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে পারবেন না।
নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) যাতে একবিন্দুও লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে খোদ প্রার্থীকেই।
আদালতের নির্দেশ, তদন্তের স্বার্থে যদি কেন্দ্রীয় এজেন্সি বা পুলিশ তাঁকে ডাকে, তবে নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকেও তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ঠিক মুখে জাহাঙ্গির খানের এই রক্ষাকবচ লাভ ফলতার তৃণমূল শিবিরের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর। কারণ, দলের প্রধান সংগঠক আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়লে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হতো। তবে আদালতের জুড়ে দেওয়া এই কড়া শর্তগুলির ফলে, বিরোধী দলগুলিও তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর বাড়তি নজর রাখার সুযোগ পেয়ে গেল। এখন দেখার, হাইকোর্টের এই হাইপ্রোফাইল রায়ের পর ফলতার নির্বাচনী সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।





