“গাছে গাছে লাল টুকটুকে মেগা ফলন!” আম-লিচুর মহাযুদ্ধে এবার চরম বাজিমাৎ, খুশিতে আত্মহারা চাষিরা

তীব্র দাবদাহ আর আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবশেষে সুখের দিন ফিরল বাংলার উদ্যানপালন ও ফল চাষের আঙিনায়। মরশুমের শুরুতেই রাজ্যের প্রধান লিচু উৎপাদনকারী জেলাগুলির গাছে গাছে এখন লাল ও সবুজের মেগা মেলা। গত কয়েক বছরের খরা ও অকাল বৃষ্টির ধাক্কা সামলে এই বছর লিচুর ফলন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত লিচু বাগানগুলিতে এখন থোকা থোকা ফলের ডালি দেখে খুশিতে আত্মহারা জেলার প্রান্তিক চাষি থেকে শুরু করে বড় বড় বাগান মালিকেরা।

উদ্যানপালন দপ্তরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট এবং মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়ার বিস্তীর্ণ অংশে এবার লিচুর ফলন বিগত কয়েক মরশুমের রেকর্ডকে ছুঁয়ে ফেলতে পারে। বিশেষ করে মালদার কালিয়াচক, রতুয়া এবং মুর্শিদাবাদের লালগোলা বেল্টের অর্থকরী ‘বোম্বাই’ ও ‘ইলাচি’ জাতের লিচুর ফলন এবার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। চাষিদের মতে, বসন্তের শেষ দিকে অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো কুঁড়ি বা মুকুল আসায় এবার গুটি ঝরে যাওয়ার সমস্যা অনেক কম ছিল। ফলে প্রতিটি গাছেই ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি ফল ধরেছে।

এই বাম্পার ফলন শুধু চাষিদের মুখেই হাসি ফোটায়নি, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাতেও এক বিরাট গতি এনে দিয়েছে। মরশুমের এই পিক টাইমে লিচু পাড়া, তা সুন্দর করে প্যাকিং করা এবং দূর-দূরান্তের বাজারে পাঠানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন লক্ষাধিক শ্রমিক। ফল ব্যবসায়ীদের একাংশ জানাচ্ছেন, আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোপুরি পেকে যাওয়া লাল টুকটুকে মিষ্টি লিচু ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড এমনকি দিল্লির মতো বড় বড় ভিনরাজ্যের বাজারেও রপ্তানি হতে শুরু করবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা অবশ্য চাষিদের এই খুশির মাঝেও কিছুটা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, ফলন ভালো হলেও এই মুহূর্তে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি বা তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হলে পাকা ফলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না এলে, চলতি মরশুমে লিচু বিক্রি করে চাষিরা যে এক বিরাট অঙ্কের লাভের মুখ দেখতে চলেছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দীর্ঘদিন পর ফলের বাজারে এমন সুদিন আসায় খুশির হাওয়া গোটা রাজ্যের ব্যবসায়ী মহলেও।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy