রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল নতুন সরকার। দীর্ঘদিনের টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) পুরোদমে কার্যকর করার সবুজ সঙ্কেত দিল নবান্ন। আর এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজ্যের মেধাবী ও আর্থিকভাব অনগ্রসর পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে এক দুর্দান্ত উপহারের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের মেধা ও প্রতিভাকে যোগ্য সম্মান দিতে এবার জাতীয় শিক্ষানীতির আওতাতেই চালু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’।
সোমবার নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মেগা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন এই স্কলারশিপের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে রাজ্যের কোনো যোগ্য পড়ুয়ার পড়াশোনা যেন মাঝপথে থমকে না যায়। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক স্তরের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা যাতে অনায়াসে এই বৃত্তির সুবিধা পেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন, তার জন্য সম্পূর্ণ আধুনিক ও স্বচ্ছ একটি পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই স্কলারশিপের টাকা পৌঁছে যাবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে এই ধরনের একটি বড় মাপের স্কলারশিপের মেলবন্ধন ঘটানো অত্যন্ত দূরদর্শী ও যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ। এর ফলে একদিকে যেমন পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ ঘটবে, তেমনই অন্যদিকে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট আর্থিক ভরসা পাবে। এতদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করা নিয়ে রাজ্যে যে টানাপোড়েন চলছিল, নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর তাতে পুরোপুরি দাড়ি পড়ে গেল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই স্কলারশিপে আবেদনের যোগ্যতামান এবং বৃত্তির সঠিক পরিমাণ খুব শীঘ্রই শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে সবিস্তারে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হবে। নতুন জমানায় একদিকে যখন প্রশাসনিক সংস্কারের কাজ জোরকদমে চলছে, ঠিক তখনই ছাত্রসমাজের জন্য শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা ঘোষণা রাজ্যের হাজার হাজার পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মুখে চওড়া হাসি ফোটাল, তা বলাই বাহুল্য।





