উত্তর ভারতজুড়ে গরমের দাপট এবার সব রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার পথে। দেশের রাজধানী দিল্লির তাপমাত্রা এবার ছুঁতে চলেছে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দফতর (IMD) ইতিমধ্যেই দিল্লির পাশাপাশি পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ বা ‘হিটওয়েভ’-এর সতর্কতা জারি করেছে। পাকিস্তানের সেন্ট্রাল অঞ্চল এবং রাজস্থান থেকে ধেয়ে আসা তীব্র শুষ্ক ও গরম পশ্চিমা বাতাসের কারণেই হু হু করে বাড়ছে পারদ। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সামান্য অসাবধানতাও ডেকে আনতে পারে হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক বিপদ।
এমন চরম আবহাওয়ায় শরীরকে ঠান্ডা ও সুস্থ রাখতে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
১. জলের পরিমাণ দ্বিগুণ করুন (হাইড্রেটেড থাকুন)
তীব্র গরমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ঘাম হয়ে বেরিয়ে যায়। তাই তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করুন। সাধারণ জলের পাশাপাশি ওআরএস (ORS), ডাবের জল, লেবুর শরবত বা ঘোল খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় বা কোল্ড ড্রিঙ্কস এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো শরীরকে আরও বেশি ডিহাইড্রেটেড করে দেয়।
২. দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন
বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদ সবচেয়ে বেশি মারাত্মক থাকে। খুব জরুরি কাজ না থাকলে এই সময়ে সরাসরি রোদে বেরোনো বন্ধ করুন। একান্তই বাইরে বেরোতে হলে ছাতা, রোদচশমা (সানগ্লাস) এবং টুপি অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। খোলা ত্বকে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না।
৩. সুতির হালকা পোশাক পরুন
গরমে আরাম পেতে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে হালকা রঙের সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। সিন্থেটিক বা গাঢ় রঙের পোশাক তাপ বেশি শোষণ করে, যা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৪. খাবারদাবারে আনুন বদল
এই সময়ে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড বা বাসি খাবার খাওয়া একদম উচিত নয়। এগুলো হজমের সমস্যা তৈরি করে শরীর আরও গরম করে তোলে। ডায়েটে রাখুন শশা, তরমুজ, লাউ বা দইয়ের মতো জলীয় ও ঠান্ডা খাবার।
৫. হিট স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন ও সতর্ক হোন
অতিরিক্ত মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় করা বা পেশিতে টান ধরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। এগুলো হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এমনটা হলে অবিলম্বে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে গিয়ে চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।





