তিলোত্তমার বুকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও লাউডস্পিকারের দাপট রুখতে পুলিশের সাম্প্রতিক কড়াকড়িকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম বিস্ফোরক ও বিতর্কিত অধ্যায়ের সূচনা হলো। উৎসব-অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইকের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের অতি-সক্রিয়তাকে এবার সরাসরি ‘সংখ্যালঘু দমনের ষড়যন্ত্র’ বলে দেগে দিলেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। পুলিশের এই কড়া অভিযানের নেপথ্যে বিজেপি সরকারের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক এজেন্ডা কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। প্রবীণ এই জননেতার এমন মন্তব্যের পর শহরের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।
কলকাতা পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ আদালতের গাইডলাইন এবং শব্দদূষণের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনেই বিগত কয়েক দিন ধরে শহরের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান, বিশেষ করে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়গুলোতে মাইকের ডেসিবেল মাত্রা পরীক্ষা এবং লাউডস্পিকারের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
কিন্তু প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে মোটেও স্বাভাবিক বা আইনানুগ বলে মানতে নারাজ সৌগত রায়। তিনি স্পষ্ট তোপ দেগে জানান, বিজেপি সরকারের প্রচ্ছন্ন নির্দেশে ও ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে উসকে দিতেই পুলিশ বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়কে নিশানা করছে। দীর্ঘদিনের চেনা সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিকে এভাবে জোরপূর্বক বন্ধ করার চেষ্টা আসলে এক বিশেষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করার এবং তাঁদের অধিকার হরণের একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।
তৃণমূল সাংসদের এই ঝাঁঝালো আক্রমণের পর স্বভাবতই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপির পাল্টা দাবি, শব্দদূষণের কোনো ধর্ম হয় না। আদালতের নির্দেশ এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই পুলিশ আইন মোতাবেক কাজ করছে। একে ‘সংখ্যালঘু দমন’ বলে রাজনৈতিক রঙ চড়ানো আসলে সস্তা ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি এবং তোষণের রাজনীতির এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
শহরের শান্তিশৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষার এই প্রশাসনিক লড়াই এখন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির রূপ নিয়েছে। একদিকে শব্দদূষণ রুখতে পুলিশের অনমনীয় মনোভাব, অন্যদিকে প্রবীণ সাংসদের এই ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব—সব মিলিয়ে লাউডস্পিকার বিতর্কের পারদ যে আগামী দিনে আরও কয়েক ডিগ্রি চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





