রাজ্যে পালাবদলের পর এবার শিক্ষা পরিকাঠামো এবং স্কুলস্তরের পাঠ্যক্রমে এক বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটল নতুন সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যের স্কুলগুলির ইতিহাসের সিলেবাসে এক আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের কাছে সঠিক এবং নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা দপ্তরের একটি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা স্কুলের ইতিহাসের সিলেবাসের বেশ কিছু অধ্যায় এক ধাক্কায় বাদ পড়তে চলেছে।
শিক্ষা দপ্তর ও সিলেবাস কমিটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে এমন কিছু বিষয় বা অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক মহলে নানা বিতর্ক ছিল। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পরই সেই সমস্ত অধ্যায় খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশ মেনেই বিতর্কিত এবং আতিশয্যে ভরা বেশ কিছু ঐতিহাসিক অধ্যায়ে কাঁচি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন সিলেবাসে একদিকে যেমন কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভাবাদর্শের ইতিহাস বাদ পড়তে চলেছে, ঠিক অন্যদিকে তেমনই বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রকৃত বিপ্লবীদের অবদানকে আরও বেশি করে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করতেই সিলেবাসে এই সংশোধন অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছে শাসক শিবির।
নতুন সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসতেই রাজ্যের শিক্ষা মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই সংশোধিত এই নতুন সিলেবাস কার্যকর করার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। তবে এই সিলেবাসের কাঁচি নিয়ে বিরোধী দলগুলির তরফ থেকে কোনো রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।





