সিবিএসই দ্বাদশের খাতা দেখায় বিরাট গলদ? নম্বর কম আসতেই বোর্ডের মূল্যায়ন নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়!

চলতি বছরের সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণীর ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বহু পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের অভিযোগ, কঠোর পরিশ্রম এবং পরীক্ষা অত্যন্ত ভালো হওয়া সত্ত্বেও রেজাল্টে আশানুরূপ নম্বর মেলেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোর্ডের খাতা দেখার গুণমান এবং সামগ্রিক মূল্যায়ন পদ্ধতি (Evaluation Process) নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিতর্কের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন।

অভিভাবক ও পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, বোর্ডের বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য— প্রতিটি বিভাগেরই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নম্বরের ক্ষেত্রে ব্যাপক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা সারা বছর স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলোতে দুর্দান্ত ফল করেছে, মূল বোর্ডে তাদের নম্বর এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষকদের গাফিলতি নাকি বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কোনো নিয়মের মারপ্যাঁচে মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ল, তা নিয়ে নেটমাধ্যমেও ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অনেকে।

এই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং বিতর্কের মুখে পড়ে অবশেষে মুখ খুলেছে সিবিএসই বোর্ড। বোর্ডের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সিবিএসই-র মূল্যায়ন পদ্ধতি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সম্পূর্ণ ত্রুটিহীনভাবে নিয়ম মেনেই খাতা দেখার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট ছাত্র বা ছাত্রীর সাথে অবিচার করার কোনো অবকাশ এখানে নেই।

বোর্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যে সমস্ত পড়ুয়া বা অভিভাবক নিজেদের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে সন্তুষ্ট নন, তাঁদের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পথ খোলা রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও খুব শীঘ্রই খাতা পুনর্মূল্যায়ন বা স্ক্রুটিনি (Scrutiny) এবং উত্তরপত্রের ফটোকপি পাওয়ার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা পুনরায় খাতা যাচাইয়ের আবেদন করতে পারবেন। তবে বোর্ডের এই আশ্বাসেও বিতর্ক পুরোপুরি থামছে না, কারণ উচ্চশিক্ষার ভর্তির মুখে এই নম্বরের ঘাটতি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy