কলকাতা শহরের রাজপথে ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের দাপট রুখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল লালবাজার। শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুগম করতে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে নো-পার্কিং জোনে গাড়ি বা বাইক রাখলেই আর রেহাই মিলবে না, গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা।
লালবাজার সূত্রে খবর, কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ফ্লাইওভারের নিচে এবং সংকীর্ণ রাস্তাগুলোতে একশ্রেণির চালক নিয়ম ভেঙে বেআইনিভাবে গাড়ি পার্ক করে রাখছেন। এর ফলে পিক-আওয়ার্সে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা। এই নৈরাজ্য বন্ধ করতেই কলকাতা ট্রাফিক পুলিশকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজারের শীর্ষ মহল।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, শহরের প্রতিটি ট্রাফিক গার্ডকে তাদের নিজস্ব এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত এলাকাকে ‘নো-পার্কিং জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে কোনো গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখলে বা পার্ক করলে অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুধুমাত্র জরিমানা করাই নয়, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি বা দীর্ঘক্ষণ রাস্তা জ্যাম করে গাড়ি রাখলে সেই গাড়ি ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার (Tow করা) প্রক্রিয়াও আরও জোরদার করা হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অনেকেই নো-পার্কিং সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও সেখানে গাড়ি রেখে চলে যান। এবার থেকে এই ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। স্পট ফাইন করার পাশাপাশি আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ধারা প্রয়োগ করা হবে।”
ইতিমধ্যেই কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, গড়িয়াহাট, শ্যামবাজার, বড়বাজার এবং শিয়ালদহের মতো অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ ড্রাইভ শুরু করেছে লালবাজারের স্ক্যানার টিম। ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সিভিক ভলান্টিয়ারদেরও এই বিষয়ে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে শহরের বেআইনি পার্কিংয়ের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে তিলোত্তমাবাসী।





