পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন রাজ্যজুড়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও মহার্ঘ ভাতা (DA)। দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের রাশ এখন নতুন বিজেপি সরকারের হাতে। আর ক্ষমতা বদলের পর থেকেই রাইটার্স বিল্ডিং থেকে নবান্নের অলিন্দে অলিন্দে একটাই গুঞ্জন— কবে মিলবে বকেয়া ডিএ এবং কবেই বা কার্যকর হবে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission)? রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অতীতে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বারবার আন্দোলনকারী সরকারি কর্মচারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে নতুন সরকার গঠিত হতেই কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আশা এবার বাস্তবে রূপ পেতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূল জমানায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বারবার সপ্তম বেতন কমিশনের দাবিতে সরব হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবিকে বারবার উপেক্ষা করেছেন। শুধু তাই নয়, কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র টাকা মেটানো হয়নি। বঞ্চনার শিকার হয়ে কর্মচারীরা রাজপথে আন্দোলন যেমন চালিয়েছেন, তেমনই আইনি লড়াইও জারি রেখেছেন। মামলা গড়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্টের রায়ও কর্মচারীদের পক্ষেই ছিল, কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার নানা আইনি জটিলতা তৈরি করে তা এড়িয়ে গিয়েছিল। এখন নবান্নের নতুন শাসকরা এই জট কীভাবে কাটেন, সেদিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।
এরই মধ্যে ডিএ মামলা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নতুন মোড় এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের কাছে ডিএ মামলার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও মতামত পেশ করার জন্য আরও তিন সপ্তাহ সময় চেয়ে নিয়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। এর অর্থ হলো, মে মাসের শেষের দিকে এই হাইভোল্টেজ মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে। দেশের শীর্ষ আদালতে নতুন সরকার ডিএ নিয়ে ঠিক কী হলফনামা জমা দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে লাখ লাখ কর্মীর ভাগ্য।
পাশাপাশি, নির্বাচনের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, বাংলায় ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনী জনসভা থেকে এই গ্যারান্টি দিয়েছিলেন। গত শনিবারই রাজ্যে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করেছে। যদিও সপ্তাহান্তে সরকারি দপ্তরগুলি বন্ধ থাকে, তবুও নবান্ন জুড়ে এখন সপ্তম পে কমিশন চালুর তৎপরতা তুঙ্গে। কর্মচারীদের মহলে জোর গুঞ্জন, সরকার হয়তো আদালতের শুনানির আগেই সমস্ত বকেয়া ডিএ একলপ্তে পরিশোধের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি না করলেও, রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ, বিরোধী আসনে থাকার সময় শুভেন্দু অধিকারী নিজেই কর্মচারীদের ধর্নামঞ্চে গিয়ে তাঁদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহেই মহার্ঘ ভাতা এবং নতুন বেতন কমিশন নিয়ে একটি যুগান্তকারী ঘোষণা আসতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্যাবিনেট বা মন্ত্রিসভার বৈঠকেই চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হবে। ফলে আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।





