পুলিশ-অপরাধী-প্রোমোটার চক্র! শান্তনুর ‘সিন্ডিকেট’ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে কারা? তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য

পুলিশ প্রশাসন, অপরাধ জগৎ এবং রিয়েল এস্টেট প্রোমোটার— এই তিন শক্তির মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছিল শান্তনুর একচ্ছত্র সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য। রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ ও তোলাবাজির কারবার খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে এমনই এক বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শান্তনুর এই প্রভাবশালী চক্রের জাল এতটাই গভীরে বিস্তৃত ছিল যে, তার অঙ্গুলিহেলনেই চলত এলাকার জমি দখল থেকে শুরু করে সিন্ডিকেটের কোটি কোটি টাকার লেনদেন।

তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এলাকার যে কোনো বড়সড় বেআইনি নির্মাণ বা জমির কারবারে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করত শান্তনু। একদিকে যেমন অপরাধ জগতের কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করে জমি মালিক ও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হতো, অন্যদিকে তেমনই খাকি উর্দির এক প্রভাবশালী অংশের প্রচ্ছন্ন মদতে সেই সমস্ত অপরাধকে আড়াল করা হতো। কোনো প্রোমোটার শান্তনুর এই অলিখিত নিয়ম বা ‘তোলা’ দিতে অস্বীকার করলে, পুলিশ ও অপরাধীদের ব্যবহার করে তার কাজ আটকে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজি করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের। এই বিপুল পরিমাণ টাকার সিংহভাগ কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা জানতে শান্তনুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তির খতিয়ান পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন স্থানীয় প্রোমোটার এবং পুলিশ আধিকারিকের নামও উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের তালিকায়।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি, শান্তনুর এই ত্রিমুখী সিন্ডিকেট চক্রের পেছনে কোনো বড়সড় মাথার হাত রয়েছে। কারণ, স্থানীয় স্তরের প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এত বড় সমান্তরাল ব্যবস্থা চালানো অসম্ভব। আপাতত শান্তনুকে হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের অন্যান্য মাথাদের আড়াল থেকে টেনে বের করাই এখন মূল লক্ষ্য তদন্তকারীদের। আগামী দিনে এই তদন্তের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy