নয়াদিল্লি এখন বিশ্ব রাজনীতির এপিসেন্টার। এক উত্তাল সময়ে তিন দিনের ঝটিকা সফরে ভারতে পা রাখলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে তাঁর সফর যতটা কূটনৈতিক, তার চেয়েও বেশি আবেগপ্রবণ ও প্রতীকী। তিনি দিল্লিতে পা রেখেছেন ‘মিনাব১৬৮’ নামক একটি বিশেষ বিমানে, যা মিনাব শহরের একটি স্কুলে মিসাইল হামলায় নিহত ১৬৮ জন ছাত্রীর স্মৃতিতে তৈরি। মধ্যপ্রাচ্যের রণংদেহী আবহে তেহরানের এই ‘ইমোশনাল ডিপ্লোম্যাসি’ বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকে যে নতুন মোড় দিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব অর্থনীতির নাড়ি কি ইরানের হাতে?
আরাঘচি এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সবচেয়ে বড় কাঁটা হতে চলেছে ‘হরমুজ প্রণালী’। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ইরান এই পথ কার্যত অবরুদ্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া। ভারতের মতো দেশ, যারা জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। দিল্লি চাইছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে। জয়শঙ্করের মাপা চালে ইরান কি শেষমেশ নতিস্বীকার করবে, নাকি অনড় থাকবে নিজের অবস্থানে?
ব্রিকস (BRICS) মঞ্চে ইরানের বড় চাল
ভারত বর্তমানে ব্রিকসের সভাপতি। ২০২৪ সালে এই গোষ্ঠীর পূর্ণ সদস্য হওয়ার পর ইরান এখন এই মঞ্চকে ব্যবহার করে আমেরিকার একতরফা নিষেধাজ্ঞার পাল্টাপাল্টি জবাব দিতে মরিয়া। ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে চান এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর শক্তি বাড়াতে চান। তবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ব্রিকসের যৌথ বিবৃতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোদীর মধ্যস্থতায় কি ফিরবে শান্তি?
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন আরাঘচি। গোটা বিশ্ব এখন তাকিয়ে মোদীর দিকে। ভারত কি পারবে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে? একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা আর অন্যদিকে যুদ্ধের বিভীষিকা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আরাঘচির এই সফর শুধুমাত্র ভারত-ইরান সম্পর্কের পরীক্ষা নয়, বরং গোটা বিশ্বের ‘সাপ্লাই চেন’ ঠিক রাখার এক মরণপণ লড়াই।





