ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ মানেই চার আর ছক্কার আসর। যেখানে ব্যাটারদের দাপটে বোলাররা নাজেহাল হন প্রতিনিয়ত। কিন্তু সেই ছক্কা খাওয়ার প্রতিযোগিতায় যদি কোনো দল বাকিদের ছাপিয়ে যায়, তবে তা সমর্থকদের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের। ২০২৬ আইপিএল চলাকালীনই সামনে এল এক অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান। আইপিএলের ইতিহাসে সবথেকে বেশি ছক্কা হজম করার রেকর্ড এখন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) দখলে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি মরসুমেই আরসিবি-র বোলিং বিভাগ নিয়ে কাটাছেঁড়া হয়েছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠ এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ছোট বাউন্ডারি বোলারদের জন্য বরাবরই বিভীষিকা। পরিসংখ্যান বলছে, আইপিএলের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবথেকে বেশি ছক্কা খেয়েছেন আরসিবি-র বোলাররাই। তাদের পরেই এই তালিকায় রয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব (বর্তমান পাঞ্জাব কিংস) ও দিল্লি ক্যাপিটালসের নাম।
আরসিবি-র বোলারদের এই ব্যর্থতার পেছনে বিশেষজ্ঞরা মূলত ছোট মাঠ এবং ডেথ ওভারের বোলিং পরিকল্পনাকে দায়ী করছেন। চিন্নাস্বামীর পিচ এমনিতেই ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। সেখানে একবার সেট হয়ে গেলে ব্যাটারদের আটকানো বোলারদের কাছে কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইপিএলের ইতিহাসে আরসিবি এ পর্যন্ত ১৬০০-এর বেশি ছক্কা হজম করেছে, যা অন্য যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বেশি। দলগতভাবে একাধিকবার ২০০-র ওপর রান করেও ম্যাচ হারার নজির রয়েছে বেঙ্গালুরুর। বোলারদের এই ধারহীন পারফরম্যান্সই কি ট্রফি খরা না কাটানোর অন্যতম কারণ? প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।
বর্তমানে আইপিএল ২০২৬-এর উত্তপ্ত লড়াই চলছে। একদিকে যেমন টুর্নামেন্টে রানের পাহাড় তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে আরসিবি-র এই ‘অস্বস্তির’ রেকর্ড নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ম্যাচগুলোতে বোলাররা কতটা আঁটোসাঁটো বোলিং করে এই লজ্জার পরিসংখ্যান থেকে দলকে কিছুটা মুক্তি দিতে পারেন।





