বন্দে ভারতে টিকিটের ‘সেল’! ৭০০ টাকার টিকিট ৩৮০-তে বেচছেন খোদ টিটিই, ভাইরাল হতেই চরম পদক্ষেপ

ভারতীয় রেলের গর্ব বন্দে ভারত এক্সপ্রেসকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির খবর সামনে এল। ট্রেনের ভেতর খোদ টিটিই-র (TTE) বিরুদ্ধেই উঠল বেআইনিভাবে টিকিট ও সিট বিক্রির অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই গোপন লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে রেল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত টিটিই-কে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল বন্দে ভারতের ভেতর?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ভেতরে এক যাত্রীর সঙ্গে টিকিটের দাম নিয়ে দরদাম করছেন কর্তব্যরত এক টিটিই। সাধারণত বন্দে ভারতে সিটের দাম যেখানে ৭০০ টাকার কাছাকাছি, সেখানে ওই টিটিই যাত্রীকে মাত্র ৩৮০ টাকার বিনিময়ে সিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা বুকিং কাউন্টার থেকে নিয়ম মেনে টিকিট কাটার পরিবর্তে, সরাসরি টিটিই-র পকেটে টাকা দিয়ে সিট দখলের এই ‘ডিল’ ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।

রেল কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপ
এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে ভিডিওটি পোস্ট হতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসা মাত্রই পূর্ব মধ্য রেলের দানাপুর ডিভিশনের ডিআরএম এবং রেল সেবা-র পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে ওই অভিযুক্ত টিটিই-কে অবিলম্বে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের অনৈতিক কাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বড় একটি অংশ রেলের এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, বন্দে ভারতের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনে যদি খোদ রেলকর্মীরাই এমন ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি করেন, তবে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবা কোথায় দাঁড়াবে? অন্যদিকে, একাংশ আবার মনে করছেন ওই টিটিই সম্ভবত অসহায় কোনো যাত্রীকে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন, যদিও রেলের নিয়ম অনুযায়ী তা দণ্ডনীয় অপরাধ।

রেলের নিয়ম কী বলছে?
উল্লেখ্য, ভারতীয় রেলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো যাত্রী চলন্ত ট্রেনে শুধুমাত্র তখনই টিকিট পেতে পারেন যদি তাঁর কাছে ওয়েটিং লিস্ট (Waiting List) বা আরএসি (RAC) টিকিট থাকে এবং ট্রেনে সিট খালি থাকে। টিটিই-রা নির্দিষ্ট জরিমানা ও ভাড়ার রসিদ দিয়ে সিট বরাদ্দ করতে পারেন। কিন্তু সরাসরি নগদ টাকার বিনিময়ে কম দামে সিট দেওয়ার কোনো আইনি সংস্থান রেলে নেই। এই ঘটনাটি ভারতীয় রেলের স্বচ্ছতা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।