ভারতের শেয়ার বাজারে মঙ্গলবার এক বিশাল অস্থিরতার ছবি ধরা পড়ল। সপ্তাহের মাঝপথে দালাল স্ট্রিটে রীতিমতো হাহাকার। বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতিতে নিফটি ৫০ এবং সেনসেক্স—উভয় সূচকই বড়সড় পতনের সম্মুখীন হয়েছে। সেনসেক্স ৭৪,০০০-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচে নেমে গিয়েছে এবং নিফটিও তার শক্ত অবস্থান হারিয়ে ২৩,৩০০-এর ঘরে ঘোরাফেরা করছে।
বাজারের বর্তমান চিত্র
লেনদেন চলাকালীন এক সময় নিফটি দিনের সর্বনিম্ন স্তর স্পর্শ করলেও পরে সামান্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিফটি প্রায় ৮০ পয়েন্ট কমে ২৩,৩০০-তে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচকটি গত মাত্র দুটি সেশনে প্রায় ৮০০ পয়েন্ট খুইয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের ‘বুল’ বা তেজি ভাব বজায় রাখতে গেলে নিফটিকে প্রথমেই ২৩,৫০০-এর স্তর পুনরুদ্ধার করতে হবে। যদি পতন অব্যাহত থাকে, তবে ২৩,২০০ এবং ২৩,০০০ হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল।
ব্যাঙ্কিং ও অন্যান্য খাতের অবস্থা
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে নিফটি ব্যাঙ্ক সূচকে। গত ২১ এপ্রিলের সর্বোচ্চ স্তর থেকে এই সূচকটি প্রায় ৪,০০০ পয়েন্ট নিচে নেমে গিয়েছে। আজ এক দিনেই নিফটি ব্যাঙ্ক আরও ৮০০ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে, যা লগ্নিকারীদের উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাঙ্কিং খাতের পাশাপাশি আইটি ও জুয়েলারি খাতের শেয়ারগুলিও আজ বিনিয়োগকারীদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
ফলাফল ঘোষণার প্রভাব
বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেই ডক্টর রেড্ডি’স, টাটা পাওয়ার, ডিক্সন এবং টরেন্ট পাওয়ারের মতো বড় সংস্থাগুলি তাদের ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তাদের শেয়ারের দামে। এছাড়া বুধবার সিপলা, ভারতী এয়ারটেল, পিএফসি এবং এইচপিসিএল-এর মতো হেভিওয়েট সংস্থাগুলি তাদের আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করবে। লগ্নিকারীরা এখন এই ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই বাজারের পরবর্তী অভিমুখ নির্ধারিত হতে পারে।
সতর্কবার্তা: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।





