ভোট মিটলেও অস্বস্তি কমছে না কলকাতা পুলিশের দুঁদে আধিকারিকদের। ভোটের ফল প্রকাশের পর এবার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্তের গতি আরও বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে অন্তত ৫ বার তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, কিন্তু প্রতিবারই হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। এবার আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিকে চিঠি পাঠাল ইডি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস বর্তমানে ঠিক কোথায় কর্মরত এবং তাঁর অবস্থান কী, তা জানতেই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে যাতে অবিলম্বে ইডি দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেই অনুরোধও জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে। তদন্তকারীদের দাবি, মামলাটির কিনারা করতে এই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
কেন বারবার হাজিরা এড়াচ্ছেন শান্তনু?
এর আগে যতবারই ইডি তাঁকে তলব করেছে, প্রতিবারই তিনি পেশাগত ব্যস্ততার দোহাই দিয়েছেন। বিশেষ করে ভোটের সময় হাই-প্রোফাইল সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট বা উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকার কারণ দেখিয়ে তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেননি। তবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও কেন তিনি হাজিরা দিচ্ছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ইডি।
তদন্তের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
উল্লেখ্য, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস দীর্ঘদিন কালীঘাট থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কলকাতা পুলিশের ডিসিপি। ইডির নিশানায় রয়েছেন তাঁর ছেলেও। এর আগে বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে শান্তনুর দুটি ফ্ল্যাটে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। এরপর শেক্সপিয়র সরণিতে তাঁর ছেলের ‘লার্নিং হাব’-এও তল্লাশি চালায় ইডি। বাবা এবং ছেলে— উভয়কেই একাধিকবার তলব করা হলেও তাঁরা একবারও কেন্দ্রীয় এজেন্সির মুখোমুখি হননি।
তদন্তকারীদের মতে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া নথির সঙ্গে বর্তমানে তদন্তাধীন একাধিক মামলার যোগসূত্র থাকতে পারে। কালীঘাট থানার দায়িত্ব সামলানোর সময়কার বেশ কিছু তথ্য ইডির নজরে রয়েছে। এখন দেখার, ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটির হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত এই আইপিএস কর্তা ইডি দফতরে হাজিরা দেন কি না।





