আর সোনা কেনা কি সম্ভব? আমদানি শুল্কে বিশাল কোপ বসাল কেন্দ্র, জেনে নিন নতুন হিসাব

দেশের সোনা ও রুপোর বাজারে বড়সড় ধাক্কা দিল ভারত সরকার। আমদানিকৃত এই মূল্যবান ধাতু দুটির ওপর শুল্ক বা ইমপোর্ট ডিউটি এক ধাক্কায় ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতেই এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে সোনা ও রুপোর দাম একলপ্তে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই ১৫ শতাংশ শুল্কের মধ্যে রয়েছে ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (AIDC)। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত বিদেশে ভারতীয় অর্থ চলে যাওয়া আটকাতে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার আবহে ভারতীয় টাকার দাম যাতে আরও না পড়ে যায়, সেই লক্ষ্যেই সরকার এই ঢাল তৈরি করল।

কেন হঠাৎ এই কড়া পদক্ষেপ?
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ। দেশের চাহিদার প্রায় পুরোটাই মেটানো হয় বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য বলছে, মার্চ ত্রৈমাসিকে গোল্ড ইটিএফ-এ বিনিয়োগ ১৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ২০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, শেয়ার বাজারের অস্থিরতার কারণে মানুষ বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সোনাকেই বেছে নিচ্ছেন। এতে প্রচুর পরিমাণ ডলার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছিল। আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে সরকার মূলত সোনার চাহিদাকে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।

বিশেষজ্ঞদের মত এবং বিকল্প পথ
সেনকো গোল্ড-এর সিইও শুভঙ্কর সেন জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি খাতের ঘাটতি কমানো অত্যন্ত জরুরি। তাই আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো ছাড়া উপায় নেই। তবে গয়না শিল্পের বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ সোনা মজুত রয়েছে। নতুন করে বিদেশ থেকে সোনা না কিনে যদি পুরনো সোনা রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করা যায়, তবে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপও কমবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীও দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার এবং বিদেশি মুদ্রার অপচয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর আগে ৩ শতাংশ আইজিএসটি (IGST) বসানোর ফলে এপ্রিল মাসে সোনা আমদানি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল। এবার ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর আগামী দিনে সোনা ও রুপোর বাজারে বড়সড় মন্দা দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy