কলকাতার তিলজলা এলাকার গুলাম জিলানী রোডে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেওয়া কারখানার মালিক জাফার নিসারকে (৪৪) অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাম অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে বুধবার ভোরে তাঁকে জালে তোলা হয়। মালিকের পাশাপাশি কারখানার এক কর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের আজই আলিপুর আদালতে পেশ করার কথা।
মৃত্যুফাঁদ বনাম ‘নিরাপত্তা’:
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের দাবি, কারখানায় চুরি রুখতে সব সময় জানলা ও দরজা ভেতর থেকে বন্ধ রাখা হতো। মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ যখন আগুন লাগে, তখন পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকায় ভেতরে থাকা শ্রমিকরা কালো ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে পড়েন। মূলত এই ধোঁয়ার কারণেই ২ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানাটি থেকে বেরোনোর কোনো বিকল্প পথ ছিল না বলেও অভিযোগ।
আইন ভেঙে বহুতল নির্মাণ?
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডেল্টা লেদার কর্পোরেশন প্রাইভেট লিমিটেড নামের এই সংস্থাটি ২০০৬ সালে রেজিস্টার্ড হলেও স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটি এখানে প্রায় ৪০ বছর ধরে চলছে। ঘনজনবসতিপূর্ণ এবং অত্যন্ত সংকীর্ণ এই গলিতে পুরসভার নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই পাঁচ তলা বিল্ডিংটি তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি দুটি বিল্ডিংয়ের মধ্যে যেটুকু ন্যূনতম দূরত্ব থাকা উচিত, এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এমনকি রাস্তার মাথার ওপর ঝুলে থাকা ইলেকট্রিক তারের জঞ্জাল দমকলের চারটি ইঞ্জিনকে পৌঁছাতে রীতিমতো বাধা সৃষ্টি করেছিল।
শঙ্কাজনক অবস্থায় ৩ জন:
এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ জন ছাড়াও আরও ৩ জন শ্রমিকের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। তাঁরা বর্তমানে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহতদের মধ্যে দু’জন এমার্জেন্সি আইসিইউ এবং একজন সার্জিক্যাল আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ডেল্টা লেদার কর্পোরেশনের বৈধ ফায়ার লাইসেন্স ছিল কি না। বাবা ও দুই ছেলের এই যৌথ কারবারে সুরক্ষাবিধি নিয়ে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে দমকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছে তিলজলা থানার পুলিশ।





