এবার পকেট খালি হবে ‘অযোগ্য’ শিক্ষকদের! বেতন ফেরাতে জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ শুভেন্দু সরকারের

২০১৬ সালের এসএলএসটি (SLST) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি হারানো ‘অযোগ্য’ বা ‘টেন্টেড’ প্রার্থীদের জন্য ঘনিয়ে এল বিপদের মেঘ। আদালতের নির্দেশ মেনে এবার তাঁদের প্রাপ্ত বেতন সুদ সমেত আদায় করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর সুপ্রিম কোর্টও যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, তা বাস্তবায়িত করতে আর দেরি করতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবারই শিক্ষা দফতরের তরফে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের কাছে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়ে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, আদালতের নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করে বেতন পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রশাসনকে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে পূর্বতন সরকার এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও বাস্তবে টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া এক কদমও এগোয়নি। কিন্তু ক্ষমতা পরিবর্তনের পরই এই প্রশাসনিক তৎপরতা দেখে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, এবার দুর্নীতির টাকা আদায় না করে থামবে না নবান্ন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওএমআর শিটে কারচুপি বা মেধাতালিকায় বেআইনিভাবে স্থান পাওয়া প্রার্থীদেরই এই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। কলকাতা হাইকোর্ট বেতন ফেরতের ক্ষেত্রে বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে মানবিকতার খাতিরে সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া বাকিদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় মিলবে না বলেই নবান্ন সূত্রে খবর।

প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের সমান্তরালে নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর এবং তাঁর শপথগ্রহণের দিনই ২০১৬ সালের বিতর্কিত পরীক্ষার ওএমআর শিটের (OMR Sheet) প্রতিলিপি কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। সিবিআই-এর উদ্ধার করা হার্ড ডিস্কের তথ্যের ভিত্তিতেই এই স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা। এখন থেকে যেকোনো পরীক্ষার্থী তাঁদের রোল নম্বর দিয়ে নিজেদের ওএমআর শিট দেখতে পাবেন। আপাতত নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের এসএলএসটি পরীক্ষার ওএমআর শিট প্রকাশ করা হলেও, খুব শীঘ্রই গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের আইনি জট কাটিয়ে যোগ্যদের জয় এবং অযোগ্যদের শাস্তি সুনিশ্চিত করাই এখন নতুন সরকারের পাখির চোখ।