কথা দিয়েছিলেন নির্বাচনের আগেই, আর কুর্সিতে বসতেই সেই প্রতিশ্রুতি পালন করে নিজের ‘সুপারস্টার’ ইমেজকে আরও উজ্জ্বল করলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া সি জোসেফ বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। রাজ্যজুড়ে অন্তত ৭১৭টি মদের দোকান (TASMAC shops) অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন নবনির্বাচিত এই মুখ্যমন্ত্রী।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সিনেমার পর্দার নায়ক থেকে বাস্তবের জননায়ক হয়ে ওঠার পথটা খুব একটা সহজ ছিল না। তবে ক্ষমতায় এসেই যে গতিতে তিনি কাজ শুরু করেছেন, তাতে কার্যত হকচকিয়ে গিয়েছে বিরোধী শিবির। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজয়ের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল রাজ্যে মদের অবাধ বিকিকিনি নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ মদ নিষিদ্ধকরণের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রথম দফায় মূলত স্কুল, মন্দির এবং জনবহুল এলাকার কাছাকাছি থাকা দোকানগুলিকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরই রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় এসেই এই ধরণের জনমোহিনী অথচ সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজয় প্রমাণ করে দিলেন তিনি কেবল গ্ল্যামারের টানে রাজনীতিতে আসেননি। বরং সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে কড়া পদক্ষেপ নিতেও তিনি পিছপা হবেন না। সুরাপ্রেমীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও, রাজ্যের মহিলা ভোটার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজয়ের এই পদক্ষেপ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বিজয় সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আগামী দিনে তামিলনাড়ুর অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোয় কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত ‘থালাইভা’র এই অ্যাকশনে উত্তাল দাক্ষিণাত্যের রাজনীতি। ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায় চোখ রাখুন এই সংক্রান্ত পরবর্তী খবরের জন্য।





