ফুটবল দুনিয়ায় ‘এল ক্লাসিকো’ মানেই এক অন্যরকম আবেগ, এক উত্তেজনার নাম। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে যখন গোটা বার্সেলোনা শিবির উৎসবে মাতোয়ারা, যখন সমর্থকদের গগনভেদী চিৎকারে স্টেডিয়াম কাঁপছে—ঠিক তখনই ডাগআউটে দেখা গেল এক ভিন্ন ছবি। সাফল্যের শিখরে দাঁড়িয়েও চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না বার্সার মাস্টারমাইন্ড হ্যান্সি ফ্লিক। কিন্তু এই জয়ের দিনেও কেন তাঁর চোখে জল? কারণটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
সাফল্যের আড়ালে ব্যক্তিগত শোক ম্যাচ পরবর্তী সময়ে জানা গিয়েছে, মাঠের লড়াইয়ে নামার ঠিক আগেই এক চরম পারিবারিক বিপর্যয়ের খবর পেয়েছিলেন ফ্লিক। তাঁর পরিবারের এক অত্যন্ত কাছের সদস্যের বিয়োগের খবর এলেও, পেশাদারিত্বের খাতিরে সেই যন্ত্রণাকে চেপে রেখেছিলেন তিনি। মাঠের নির্দেশনায় একবারের জন্যও সেই শোক ফুটে উঠতে দেননি। কিন্তু ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই এবং খেতাব নিশ্চিত হতেই নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি এই জার্মান কোচ।
পেশাদারিত্বের নয়া নজির ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত শোককে পাশে সরিয়ে রেখে যেভাবে তিনি দলকে পরিচালনা করেছেন এবং রিয়াল মাদ্রিদের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে পর্যুদস্ত করে লা লিগার খেতাবের পথে এগিয়ে গিয়েছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। ফুটবলাররাও ম্যাচ শেষে কোচের এই মানসিক যন্ত্রণার কথা জানতে পেরে স্তম্ভিত। জয়ের উৎসব ছাপিয়ে ড্রেসিংরুমে এখন ঘুরে ফিরে আসছে কোচের এই ত্যাগের কথা।
অনুরাগীদের মন জয় সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্সেলোনা সমর্থকরা ফ্লিকের এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। জেতার পর যখন সবাই ফটো সেশন আর উল্লাসে ব্যস্ত, তখন ফ্লিকের অশ্রুসিক্ত চোখের ছবি ভাইরাল হয়ে পড়েছে। কেউ লিখেছেন, “ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি মানুষের হার না মানার গল্প।” আবার কেউ বলেছেন, “হ্যান্সি ফ্লিক প্রমাণ করলেন দলের প্রতি দায়বদ্ধতা কাকে বলে।”
ব্যক্তিগত বিপর্যয় সত্ত্বেও বার্সার এই জয়কে কি আপনি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখবেন, না কি ফ্লিকের লড়াই হিসেবে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।





