ডিএমকে-এর রাজত্ব শেষ? বিরোধী দলনেতা হিসেবে শপথ নিলেন উদয়নিধি স্ট্যালিন, ২০২৬-এর তামিলনাড়ু উত্তাল

তামিলনাড়ুর আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। সোমবার নবগঠিত ১৭তম তামিলনাড়ু বিধানসভায় অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। একদিকে যখন তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (TVK) প্রধান সি. জোসেফ বিজয় রাজ্যের ত্রয়োদশ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, অন্যদিকে ডিএমকে নেতা তথা প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন দায়িত্ব নিলেন বিরোধী দলনেতার। কয়েক দশকের দ্রাবিড়ীয় রাজনীতির চেনা ছক ভেঙে এদিন বিধানসভায় এক অনন্য সৌজন্যের বাতাবরণ দেখা যায়।

সপ্তদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগেই কক্ষে প্রবেশ করেন উদয়নিধি স্ট্যালিন। তিনি সটান চলে যান বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত আসনে। এর কিছুক্ষণ পরেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কক্ষে প্রবেশ করেন থালাপথি বিজয়। শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নিজে গিয়ে উদয়নিধি স্ট্যালিনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁকে অভিবাদন জানান। দুই তরুণ তুর্কির এই সৌজন্য বিনিময় মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

অধিবেশনের শুরুতে প্রোটেম স্পিকার এম.ভি. কারুপাইয়া নবনির্বাচিত বিধায়কদের স্বাগত জানান। তামিল ভাষায় দেওয়া ভাষণে তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে ধন্যবাদ জানান এবং এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কাণ্ডারি হিসেবে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কারুপাইয়া তাঁর বক্তব্যে পেরিয়ার, বি.আর. আম্বেদকর, কে. কামরাজ এবং রানী ভেলু নাচিয়ারের মতো কিংবদন্তি নেতাদের আদর্শকে পাথেয় করে নতুন সরকার এগিয়ে যাবে বলে অঙ্গীকার করেন।

প্রথা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় পেরাম্বুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে প্রথম শপথ গ্রহণ করেন। এরপর তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য এন. আনন্দ, আধব অর্জুন, রাজ মোহন এবং সিটি নির্মল কুমাররা একে একে শপথ নেন। বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেতা হিসেবে এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী এবং ও পন্নিরসেলভামও এদিন বিধায়ক পদের শপথ নেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসা টিভিকে (TVK) বর্তমানে কংগ্রেস, বাম দল এবং ভিসিকে-র সমর্থনে সরকার পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিনের ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-এর দ্বৈরথ সরিয়ে বিজয়ের এই উত্থান তামিল রাজনীতির মানচিত্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy