সমাজ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরের এক প্রবীণ দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ। যে বয়সে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গী হয়ে ওঠার অঙ্গীকার করেন, সেই বয়সে এসে ৮০ বছরের স্বামী এবং ৭৫ বছরের স্ত্রী একে অপরের থেকে চিরতরে আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই অদ্ভুত বিচ্ছেদ সংবাদটি বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের নহটোর এলাকায় ‘টক অফ দ্য টাউন’। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিয়েটি হয়েছিল মাত্র এক বছর আগে।
ঘটনাটি নহটোর এলাকার মাহমুদপুর গ্রামের। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই প্রবীণ যুগল পারস্পরিক সম্মতিতে এবং পরিবারের উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। বিয়ের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত মহৎ ও মানবিক। জীবনের অন্তিম লগ্নে একাকিত্ব দূর করা এবং একে অপরের ‘লাঠি’ বা সাহারা হওয়াই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। গ্রামবাসীরাও এই ব্যতিক্রমী মিলনকে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন, যাতে দু’জনের বৃদ্ধকাল শান্তিতে কাটে।
ব্যর্থ হলো মানানোর চেষ্টা
বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস জীবনছন্দ স্বাভাবিক থাকলেও, ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হয়। বিবাদ এতটাই চরম আকার ধারণ করে যে, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গ্রামের পঞ্চায়েত পর্যন্ত গড়ায়। জানা গিয়েছে, বৃদ্ধ স্বামী তাঁর স্ত্রীকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে শান্ত করার অনেক চেষ্টা করেছিলেন। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও বেশ কয়েকবার মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। মনের মিল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পথ আলাদা করাকেই শ্রেয় মনে করেছেন তাঁরা।
আইনি জটিলতা ছাড়াই বিচ্ছেদ
গ্রাম প্রধানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিবাহবিচ্ছেদটি সামাজিক স্তরে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছে। কোনো পক্ষই পুলিশ বা আদালতের দ্বারস্থ হননি। জীবনের শেষ বিকেলে যেখানে একে অপরকে আঁকড়ে ধরার কথা, সেখানে মাত্র এক বছরের মাথায় এই বিচ্ছেদ গ্রামবাসীদের স্তম্ভিত করেছে। যে মাহমুদপুর গ্রামে এক বছর আগে সানাইয়ের শব্দে আনন্দ উদযাপিত হয়েছিল, আজ সেখানে একরাশ বিষণ্ণতা আর একাকিত্বের ছায়া। সমাজতাত্ত্বিকরা বলছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সম্পর্কের রসায়ন বয়স বা পরিস্থিতির ওপর নয়, বরং মানসিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করে।





