কেদারনাথ তীর্থযাত্রা সেরে ফেরার পথে চলন্ত ট্রেন থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া কানপুরের প্রজ্ঞা সিংকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তোলপাড় ছিল উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহার পুলিশ। অবশেষে ৬ দিন পর বিহারের বেগুসরাই থেকে তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাকে খুঁজে পাওয়ার পর যে তথ্য সামনে এসেছে, তা শুনে চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে পুলিশ কর্তাদেরও। প্রাথমিকভাবে অপহরণের আশঙ্কা করা হলেও, এই ঘটনার নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে চরম দাম্পত্য কলহ ও এক জেদি গৃহবধূর প্রতিশোধের গল্প।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ই মে মধ্যরাতে। প্রজ্ঞা ও তাঁর স্বামী মনীশ কেদারনাথ দর্শন শেষে নন্দা দেবী এক্সপ্রেসে চড়ে গাজিয়াবাদ ফিরছিলেন। লক্সর গ্রামীণ থানার পুলিশ সুপার শেখর চন্দ্র সুয়াল জানিয়েছেন, চলন্ত ট্রেনেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রজ্ঞা মনে মনে মনীশকে একটি বড়সড় ‘শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। রাত যখন গভীর এবং মনীশ নিজের বার্থে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সুযোগে নিঃশব্দে ট্রেন থেকে নেমে যান প্রজ্ঞা। রাগের মাথায় তিনি একবারও ভাবেননি স্টেশনের নাম বা গন্তব্যস্থল।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রজ্ঞা স্বীকার করেছেন, মনীশ ঘুমিয়ে পড়ার পর তিনি ট্রেন থেকে নেমে অন্য একটি স্টেশনে চলে যান। সেখান থেকে টিকিট ছাড়াই তিনি একটি ট্রেনে উঠে পড়েন। সেই ট্রেনটি যে তাঁকে সরাসরি বিহারের বেগুসরাই নিয়ে যাবে, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না। বেগুসরাই পৌঁছানোর পর হুঁশ ফেরে তাঁর। এরপরই তিনি নিজের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অন্যদিকে, মুজাফফরনগরের কাছে মনীশের ঘুম ভাঙলে দেখেন স্ত্রী নেই। হন্যে হয়ে সারা কামরা এবং শৌচাগার খুঁজেও প্রজ্ঞার হদিশ মেলেনি। প্রজ্ঞার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকায় ঘাবড়ে গিয়ে রুরকি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন মনীশ।
এই তদন্তে পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মনীশ অভিযোগ তুলেছিলেন যে, রুরকি ও মুজাফফরনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অচল ছিল। ফলে প্রজ্ঞা স্বেচ্ছায় নেমেছেন নাকি কোনো বিপদে পড়েছেন, তা বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কয়েক কিলোমিটার রেললাইন জুড়ে পুলিশ তল্লাশি অভিযানও চালায়। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে বিহার থেকে প্রজ্ঞাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে প্রজ্ঞা কানপুরে তাঁর নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। পারিবারিক বিবাদের জেরে ঘটা এই টানটান উত্তেজনার অবসান হলেও, রেলের সিসিটিভি বিভ্রাট নিয়ে প্রশ্নটা থেকেই গেল।





