পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং যুদ্ধের দামামা ভারতের অর্থনীতির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এবং লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদে এক জনসভা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক বিশেষ এবং জরুরি আবেদন জানালেন তিনি। বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) বা বাড়ি থেকে কাজ করার পুরনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে মনে করিয়ে দেন যে, করোনা মহামারীর সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমরা বাড়ি থেকে কাজ, ভার্চুয়াল মিটিং এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম। তিনি বলেন, “সেই সময়ে আমরা যেভাবে কাজ চালিয়ে গিয়েছিলাম, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পদ্ধতিগুলো পুনরায় শুরু করা অত্যন্ত প্রয়োজন।” ভারতের অপরিশোধিত তেলের একটি বিশাল অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে সেই সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব পড়লে দেশের অর্থনীতি বড়সড় চাপের মুখে পড়তে পারে। সেই চাপ সামলাতেই টেলিওয়ার্কিং, মহাসড়কে গাড়ির গতি কমানো এবং ব্যক্তিগত যানের বদলে গণপরিবহণের ব্যবহার বাড়ানোর মতো একাধিক বিকল্প ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর কোন কোন ক্ষেত্র দ্রুত ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ শুরু করতে পারে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এই তালিকায় সবার আগে রয়েছে ভারতের শক্তিশালী তথ্যপ্রযুক্তি (IT) খাত। সফটওয়্যার ডেভেলপার, কোডার, সাইবার সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট এবং টেক সাপোর্ট প্রফেশনালরা অনায়াসেই বাড়ি থেকে কাজ করতে পারেন। টিসিএস (TCS), ইনফোসিস বা উইপ্রোর মতো সংস্থাগুলো কোভিডের সময় প্রমাণ করে দিয়েছিল যে রিমোট ওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমেও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা সম্ভব। বর্তমানে অধিকাংশ আইটি ফার্মের কাছেই ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ভিপিএন অ্যাক্সেস তৈরি রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি ডিজিটাল মিডিয়া ও সম্পাদকীয় বিভাগও দ্রুত এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। নিউজ রিপোর্টিং, স্ক্রিপ্টিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এখন মূলত ক্লাউড-ভিত্তিক। যদিও টিভি প্রোডাকশনের জন্য স্টুডিও বা ফিল্ড রিপোর্টিং প্রয়োজন, তবে ডিজিটাল পাবলিশিংয়ের কাজ দূর থেকে করা অনেক বেশি সহজ। প্রধানমন্ত্রীর এই আরজি যদি দেশবাসী এবং কর্পোরেট জগত মেনে চলে, তবে তা কেবল পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহারই কমাবে না, বরং দেশের আমদানির খরচ কমিয়ে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখবে।





