বিশ্ব রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর মোড়! দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসের দখল নেওয়ার পর এই প্রথম চিনের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প। আগামী ১৩ থেকে ১৫ মে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেজিং যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোমবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত গত মার্চ মাসে এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও, ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় তা পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধের আবহেও চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মুখোমুখি বসার জন্য ট্রাম্পের এই মরিয়া ভাব আন্তর্জাতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
ইরান ইস্যুতে কি বেজিংই তুরুপের তাস?
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান পরিস্থিতির জট খুলতেই শি জিনপিংয়ের সাহায্য চাইছেন ট্রাম্প। ইরান ও চিনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা কারও অজানা নয়। মনে করা হচ্ছে, চিনের মাধ্যমেই ইরানকে একটি কড়া বার্তা বা বড়সড় কোনো সমঝোতার প্রস্তাব দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একদিকে যখন আমেরিকা ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তাদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তেমনই নেপথ্যে ইরানকে সামরিক ও আর্থিক সাহায্য দিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিনের বিরুদ্ধে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে বেজিংয়ের মধ্যস্থতা ট্রাম্পের কাছে এখন অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনার কেন্দ্রে ইরান ও রাশিয়া:
মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের দাবি, এই বৈঠকে ইরান ও রাশিয়ার প্রসঙ্গটিই সবথেকে বেশি গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে চিনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ইরান ও রাশিয়ার সমরাস্ত্র তৈরির বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। ট্রাম্পের সফরের আগে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। ট্রাম্প চাইছেন চিনের অর্থনৈতিক সাহায্যের ওপর রাশ টেনে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে।
বাণিজ্য ও তাইওয়ান নিয়ে নয়া মেরুকরণ:
শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়েও বড় কোনো চুক্তি হতে পারে এই সফরে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ত ইতিমধ্যেই ইরানের ওপর ‘ইকোনমিক ফিউরি’ অভিযানের কথা ঘোষণা করেছেন। এই চাপের মুখেই আমেরিকা-চিন বাণিজ্য সম্পর্ক (US-China Board of Trade) এবং কৃষি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকার নীতিতে কোনো বদল আসবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের। যদিও মার্কিন আধিকারিকরা দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের নীতি অপরিবর্তিতই থাকছে।
এই সফর শেষে চলতি বছরের শেষের দিকে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রীকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন ট্রাম্প। এখন দেখার, বেজিংয়ের মাটি থেকে পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি থামানোর কোনো জাদুকরী দাওয়াই ট্রাম্প বের করতে পারেন কি না।





