তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই কি এবার সব ‘গোপন ফাইল’ খুলতে শুরু করলেন ঋজু দত্ত? দলের দীর্ঘদিনের এই পরিচিত মুখ এবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এমনকি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেল হতে পারে বলেও এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন তিনি, যা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঋজু দত্তর অভিযোগের তিরে এবার প্রধানত প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)। তাঁর দাবি, বাইরের এই সংস্থাটি এখন কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসকে দখল করে নিয়েছে। দলের অন্দরের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ এখন আর মমতা বা অভিষেকের হাতে নেই, বরং আইপ্যাক-এর কর্মীরাই ঠিক করে দিচ্ছেন দলের ভবিষ্যৎ। ঋজু সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, এই সংস্থার ওপর অতি-নির্ভরশীলতাই মমতার রাজনৈতিক জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
নিজের দাবির স্বপক্ষে আরও বিস্ফোরক হয়ে ঋজু বলেন, “আইপ্যাক যেভাবে দলকে পরিচালনা করছে, তাতে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর সেই দায় গিয়ে পড়বে সরাসরি সুপ্রিমোর ওপর। এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যে, মমতার জেল হওয়াও অসম্ভব কিছু নয়।”
তৃণমূলের অন্দরের দীর্ঘদিনের এই মুখপাত্রকে কেন বহিষ্কার করা হলো, তা নিয়ে এমনিতেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছিল। কিন্তু দল থেকে বের হতেই তাঁর এই সুর বদল এবং সরাসরি নেত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ কার্যত বেনজির বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঋজুর মতে, তৃণমূল এখন আর সেই পুরনো আবেগ বা মাটির মানুষের দল নেই, এটি এখন একটি কর্পোরেট সংস্থায় পরিণত হয়েছে যেখানে পুরনো ও একনিষ্ঠ কর্মীদের কোনও জায়গা নেই।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ঋজু দত্তর কাছে কি এমন কোনও অকাট্য তথ্য আছে যার ভিত্তিতে তিনি এই ‘জেল’-এর দাবি তুলছেন? নাকি দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই এই আক্রমণ? তৃণমূল ভবনের পক্ষ থেকে অবশ্য এই বিষয়ে এখনও কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে ঋজু দত্তর এই মন্তব্য যে আসন্ন দিনগুলিতে বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় ঝোড়ো হাওয়া বইয়ে দেবে, তা নিশ্চিত। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য আমরা এই খবরের পরবর্তী প্রতিটি আপডেট সবার আগে পৌঁছে দেব।





