বলিউডের গ্ল্যামারের চাকচিক্যের আড়ালে কি এক অন্ধকার বৈষম্য লুকিয়ে রয়েছে? নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা মুখে বলা হলেও, পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কেন বারবার কোপ পড়ে অভিনেত্রীদের পকেটে? সম্প্রতি বলিউডের এই লিঙ্গ বৈষম্য বা ‘জেন্ডার পে গ্যাপ’ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন।
জাতীয় পুরস্কার জয়ী এই অভিনেত্রীর দাবি, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এখনও নায়িকাদের পারিশ্রমিক কমানোর জন্য এক ধরণের চাপ তৈরি করা হয়। কৃতির মতে, সিনেমার বাজেট নিয়ন্ত্রণের কথা যখনই ওঠে, তখন সবার আগে প্রযোজকদের নজর পড়ে অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিকের দিকে। অথচ বড় তারকাদের (পুরুষ অভিনেতা) আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করা হয় না।
কৃতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “একজন অভিনেত্রী যখন কঠোর পরিশ্রম করে নিজের জায়গা তৈরি করেন, তখন তাঁর পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাজেটের ঘাটতি মেটানোর জন্য কেন বারবার আমাদের দিকেই আঙুল তোলা হবে? কাজের ক্ষেত্রে যেখানে পরিশ্রম সমান, সেখানে পারিশ্রমিকের বৈষম্য কেন বজায় থাকবে?”
অভিনেত্রীর এই মন্তব্য বলিউডের বহুদিনের পুরনো ক্ষতকে আবারও খুঁচিয়ে দিয়েছে। এর আগে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন বা বিদ্যা বালনের মতো তারকারাও পারিশ্রমিকের এই বৈষম্য নিয়ে সরব হয়েছিলেন। কিন্তু কৃতির এই ‘বিস্ফোরক’ ইন্টারভিউ প্রমাণ করে দিল যে, সময়ের সাথে সাথে ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতায় খুব একটা বদল আসেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বাজেটের ছবিগুলোতে নায়কদের পিছনে বিপুল টাকা খরচ করা হলেও, সমপরিমাণ গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও নায়িকাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়। কৃতি শ্যানন সরাসরি কোনো প্রযোজকের নাম না নিলেও, তাঁর এই বয়ান যে বলিউডের লিঙ্গ বৈষম্যের কফিনে আরও একটি পেরেক ঠুকল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী প্রযোজকরা কৃতির এই প্রতিবাদের জবাবে কী সাফাই দেন।





